লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
-
فيها يفرق كل امر حكيم
অর্থ: পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞা সম্পন্ন বিষয়ের ফায়ছালা করা হয় অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে উম্মতকে জানিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
هل تدرين فى هذه الليلة يعنى ليلة النصف من شعبان قالت ما فيها يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فيها ان يكتب كل مولود فى هذه السنة وفيها ان يكتب كل هالك من بنى ادم فى هذه السنة وفيها ترفع اعمالهم وفيها تنزل ارزاقهم
অর্থ: আপনার জানা রয়েছে কি এই রাতে অর্থাৎ শা’বান শরীফ উনার মধ্য রাতে তথা শবে বরাতে কি ফায়ছালা করা হয়ে থাকে? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উক্ত রাতে কি কি বিষয়ে ফায়ছালা করা হয়ে থাকে? জাওয়াবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উক্ত রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয় বা ফায়ছালা করা হয় এবং আগামী এক বছরে কতজন মানুষ ইন্তিকাল করবে তাও লিপিবদ্ধ করা হয় এবং উক্ত রাতে মানুষের বিগত এক বছরের আমল মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে পেশ করা হয় এবং উক্ত রাতে আগামী এক বছরের রিযিকের ফায়ছালা করা হয়। (মিশকাত শরীফ)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা দ্বারা প্রতিভাত হয়েছে যে, বান্দা-বান্দীর বিশেষ বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় সমূহের ফায়ছালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত উনার রাতে। এই কারণে এই রাতকে লাইলাতুল ফায়ছালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাত্রিও বলা হয়।
আর পবিত্র শবে ক্বদরকে বলা হয় লাইলাতুল জারী অর্থাৎ জারী হওয়ার রাত্রি। অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতে ফায়ছালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় আর পবিত্র শবে ক্বদর থেকে তা জারী বা বাস্তবায়ন শুরু হয়ে পরবর্তী শবে ক্বদর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
কাজেই, আসন্ন পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতে যার যা কিছু দরকার মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ফরিয়াদ করে ফায়ছালা করে নিতে হবে।
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে খাছ নাযিল করতঃ রাতের শুরু থেকে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন, যে যা চাবে আমি তাকে তা দিয়ে দিব। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে, হযরত আবু মূসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে ঘোষণা করেন যে, উনার সমস্ত মাখলুকাতকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত।” (ইবনে মাযাহ শরীফ, আহমদ, মিশকাত শরীফ)

No comments:
Post a Comment