Tuesday, September 15, 2020

সমান অধিকার, নারী অধিকারের নাম দিয়ে নারীদেরকে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামানো হচ্ছে

 সমান অধিকার, নারী অধিকারের নাম দিয়ে নারীদেরকে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামানো হচ্ছে


; কিন্তু এতে করে তারা পরিণত হচ্ছে পুরুষদের মনোরঞ্জন ও ভোগ্যপণ্যের বস্তুতে।


কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতা তার একটি নমুনা মাত্র; মূলত প্রকৃত নারী অধিকার রয়ে গেছে একমাত্র দ্বীন ইসলাম উনার চর্চার মধ্যেই।


বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী অন্তরে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চেতনা ধারণ করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-পরিবেশ-অবস্থা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ধাঁচে গঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ ৯৮% মুসলিম অধ্যুষ্যিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি আজ সম্রাজ্যবাদী ও ইহুদীবাদের ও মুশরিকবাদের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। 

এটা সম্ভব হচ্ছে সরকারের কর্তাপর্যায়েই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী দালাল থাকার কারণে। ধর্মনিরপেক্ষতার লেবাসে তারা মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম ধ্বংসের চেষ্টাতেই লিপ্ত। তাদের চোখ ইহুদী, নাছারা অথবা নাস্তিক্যবাদের চোখ। তাই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে তারা বলে থাকে, নারীরা তাদের মেধা, সৌন্দর্য, মনন এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্য দিয়ে একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’ নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

কিন্তু সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ইসলাম হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সুন্দরী নারীর দেহপ্রদশর্নী দ্বারা হতে পারে না। এই দেহপ্রদর্শনী মূলত পতিতাবৃত্তিরই নামান্তর। আর বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে- ‘পতিতাবৃত্তি নিরোধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দীর্ঘদিনের। পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি সিক্রেট সোসাইটি বা গুপ্ত সংগঠন রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ফ্রি মেসন। ফ্রি মেসন মূলত ইহুদীদের তৈরি গুপ্ত সংগঠন। এই ফ্রি মেশনের মুসলিমবিরোধী ষড়যন্ত্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের এই মিস ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতা নামক অশ্লীল ওয়েগুলোতে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে। শুধু সুন্দরী প্রতিযোগিতাই নয় তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র সুদুরপ্রসারী।

বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের নিয়ে ইহুদী ষড়যন্ত্র:

ফ্রি মেসনদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারী। এজন্য তারা বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম নারীদের। তারা “নারী অধিকার আন্দোলন” নামে বিভিন্ন সংগঠনের জন্ম দিচ্ছে। বিভিন্ন সমাজসেবা সংস্থার ব্যানারে তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। “নারী নেতৃত্বে”র স্লোগানের ব্যাপক প্রচার প্রসার করছে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে। “সুন্দরী প্রতিযোগিতা”র আয়োজনের মাধ্যমে নারীর রূপ-সৌন্দর্য-দেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। কর্পোরেট লেভেলে নারীদের ব্যবহার করে ব্যবসায়ীক ফায়দা লোটা হচ্ছে। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের পর্দা-আব্রুকে নষ্ট করছে। “পবিত্র দ্বীন ইসলাম নারীকে আবদ্ধ রাখছে”- এমন একটা কথাকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীকে ধর্মচ্যূত করার চেষ্টা করছে। “পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্তরায়”, এরকম কথা প্রচার করে তারা পুরুষদের বিপরীত পক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে নারীকে। এনজিও’র মাধ্যমে ‘সমঅধিকার’, আর্থিক সহযোগিতা’ এবং ‘নারী কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি করে ঘর থেকে নারীকে বের করে পুরুষদের সাথে কর্মসংস্থানের ‘প্রতিযোগী’ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। অনুন্নত দেশগুলোতে এভাবে দারিদ্র্যতার সুযোগ নিচ্ছে। অথচ তারা দারিদ্র্যতার দুষ্ট চক্র থেকে তাদের বের করার চেষ্টা করছে না। ‘সহশিক্ষা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে নারী-পুরুষকে একত্রে আসার সুযোগ করে দিয়ে ‘প্রেম’ এবং তার পরবর্তীতে ‘ব্যাভিচার’-এর ক্ষেত্র তৈরি করছে। নারীকে পুরুষের সামনে ছেড়ে দিয়ে তার মান-ইজ্জতের রক্ষার কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা না করে, বরং বিশ্বব্যাপী পতিতাবৃত্তিকে নারীর ‘অর্থনৈতিক কর্মকা-’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই দুষ্টুচক্র নারীকে আজীবনের জন্য এই নারকীয় কর্মযজ্ঞের দিকে ধাবিত করছে। 

প্রসঙ্গত, লিটি বারনাম নামক এক দুশ্চরিত্র বিধর্মী ১৮৫৪ সালে কথিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কিন্তু জনগণ কর্তৃক প্রতিহত হয়। ১৮৮০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকায়। ১৯৫১ সালে এরিক মর্লি কর্তৃক ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও এই মিস ওয়ার্ল্ডের কুপ্রভাব মিডিয়ার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করছে। এই মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশ থেকে বাছাই করা নারীদেরকে দেহপ্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হচ্ছে। প্রথমেই যে দালাল মিডিয়া গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চায় তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচারণা চালায় এবং আবেদন আহবান করে। সাথে সাথে লোভনীয় চটকদার কথার ফুলঝুরি ছড়ায়। এইসব দেহপ্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য নানা অশ্লীল উপায় অবলম্বন করে কথিত নির্বাচকরা। তাদের শারীরিক গঠন, হাঁটা, কথা, রং-ঢং, অঙ্গভঙ্গি, বাকপটুতা কেমন ইত্যাদি বাহারী নাম দিয়ে মার্কিং করে। যে যত অশ্লীল, মোহনীয় অঙ্গভঙ্গি, আবেদনময়ী হাসি, কামুক স্বরে কথা বলতে পারে তার মার্ক তত বেশি। এখানে দেখা হয় সে কত বেশি বেহায়াপনা দেখাতে পেরেছে সেটার মূল্যায়ন। পণ্যের ও পর্নোর মাপকাঠিতে যে মেয়ে উপযুক্ত- চূড়ান্ত প্রতিযোগী হওয়ার তার সুযোগ ততো বেশি। যে কোম্পানিগুলো এর পৃষ্ঠপোষক থাকে তাদের পণ্যের প্রচারণা কতটুকু হবে ওই মেয়েকে দিয়ে, তারা কতটুকু লাভবান হবে তা-ই মূল মাপকাঠি।

সাথে যেসব নারী শরীর বিষয়ক বিচারকরা থাকে, তাদের কুধারণা বা কুবাসনা যারা যত বেশি জাগিয়ে তুলতে পারবে বা উসকে দিতে পারবে, সে প্রতিযোগীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। হাজার হাজার মেয়ের মধ্য হতে এখানে বাছাই করে মাত্র ২০-২৫ জনকে পরবর্তী ধাপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে মিডিয়াগোষ্ঠী প্রতিযোগী মেয়েদের দ্বারা একটি চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেয়। সেখানে উল্লেখ থাকে প্রতিযোগী মেয়েরা কয়েক বছর উক্ত মিডিয়া গোষ্ঠীর যেকোনো বাণিজ্যে, পণ্যে, অনুষ্ঠানে, মডেলিংয়ে বিনা পারিশ্রমিকে হাজির থাকবে এবং নির্দেশ মতো কাজ করবে। না চাইলেও সংধারী মেয়েদের তা এড়ানোর উপায় থাকে না। সংধারী হারায় তার স্বাধীনতা। এ সুযোগে আয়োজক মিডিয়া গোষ্ঠী কামিয়ে নেয় টাকা। উক্ত সংধারীদেরকে নিজের সবকিছু বাদ দিয়ে অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য হাজির থাকতেই হয়।

বলতে হয়, বাংলাদেশে কথিত শত শত ইসলামী দল থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এরা সবাই ধর্মব্যবসা তথা দ্বীন ইসলাম উনাকে বিক্রি করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এই দ্বীন ইসলাম বিক্রিকারী ধর্মব্যবসায়ী মালানারা কোনো সময়ই এই অশ্লীল সুন্দরী প্রতিযোগিতা, মিস ওয়ার্ল্ড ইত্যাদির বিরুদ্ধে কোনো টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এইসব বেলেল্লাপনায় মহান আল্লাহ পাক উনার কঠোর শাস্তির কথা তারা দেশে প্রচার করছে না। অর্থাৎ এককথায় বলতে গেলে তারা উল্টো এগুলোকে অগ্রাহ্য করছে। তথা পরোক্ষভাবে সমর্থন প্রদান করছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন- “যারা চায় ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।”

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...