Wednesday, November 11, 2020

মুসলমানরা বিধর্মীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়, কিন্তু ইতিহাস কি বলছে?


 মুসলমানরা বিধর্মীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়, কিন্তু ইতিহাস কি বলছে?


ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন জারি হওয়াতে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিল বাঙালি বিধর্মী সম্প্রদায়। মুসলমান আমলে নবাবদের দেখলে তাদেরকে সালাম দিতে হতো, আদব-কায়দা রক্ষা করতে হতো। ইংরেজ আমলে সেই সমস্যা ছিল না, কারণ ইংরেজরাও ছিল তাদের মতোই অসভ্য বর্বর বেয়াদব সম্প্রদায়। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই যাকে বলে। বিধর্মীদের একজন প্রধানতম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ভাষায়:

“যবনাধিকারে আমরা ধর্ম বিষয়ে স্বাধীনতা প্রাপ্ত হই নাই, সর্বদাই অত্যাচারের ঘটনা ঘটিত।...এইক্ষণে ইংরাজাধিকারে সেই মনোস্তাপ একেবারেই নিবারিত হইয়াছে, আমরা অনায়াসেই ‘চর্চ্চ’(চর্চ্চ=চার্চ বা গীর্জা) নামক খ্রীষ্টিয় ভজনামন্দিরের সম্মুখেই গভীর স্বরে ঢাক, ঢোল, কাড়া, তাসা, নহবৎ, সানাই, তুরী, ভেরী, বাদ্য করিতেছি, “ছ্যাডাং” শব্দে বলিদান করিতেছি, নৃত্য করিতেছি, গান করিতেছি, প্রজাপালক রাজা তাহাতে বিরক্ত মাত্র না হইয়া উৎসাহ প্রদান করিতেছে।... নবাবী আমলে আদব-কায়দা করিতে করিতে কর্মচারিদিগের প্রাণান্ত হইত...বর্তমান রাজ-মহাত্মারা সে বিষয়ে একেবারেই অভিমানশূন্য...কেহ যদি সেলাম না করে তাহাতে কিছুমাত্র ক্ষোভ নাই।”

(সূত্র: আধুনিক বাংলা কাব্যে বিধর্মী-মুসলমান সম্পর্ক, মুহম্মদ মনিরুজ্জামান, বাংলা একাডেমী, পৃষ্ঠা ১৪০)

বিধর্মী সাম্প্রদায়িকতাবাদের একজন প্রধান তাত্ত্বিক বঙ্কিমের মেন্টর হিসেবে পরিচিত এই ঈশ্বরচন্দ্রের বক্তব্যেই বিধর্মীদের মনমানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা না করে, তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের ধর্মকর্মে ব্যাঘাত ঘটিয়ে বিধর্মীরা বিকৃত আনন্দ লাভ করে। ব্রিটিশরা বিধর্মীদের এরূপ কর্মকা-ে বাধা দিতো না, যেহেতু মুসলমানদের দমাতে বিধর্মীদের সহযোগিতা তাদের দরকার ছিল। এজন্য যা খুশি তাই তাদেরকে তারা করতে দিয়েছিল, বিনিময়ে তারা পেয়েছিল ইউরোপকে ধনী করতে মুসলিম শাসিত ভারতের অঢেল ধনসম্পদ। উপনিবেশ স্থাপনকারী হিসেবে এটুকুই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। 

এদেশের মুসলমানরা বিধর্মীদেরকে প্রতিবেশী মনে করতে চায়, তাদের সাথে সহাবস্থান করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলছে তা কখনো সম্ভব হবার নয়। বিধর্মীরা সর্বদাই চাইবে তাদের মুসলমান প্রতিবেশীর ধর্মীয় অনুভূতিকে দলিত-মথিত করতে, সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বিধর্মীদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। তারা পূজার নামে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের ম-প করতে চাইবে, চাঁদার নামে প্রত্যেক মুসলমানের নিকট গিয়ে তাকে বিব্রত করবে। স্কুল-কলেজ তো বটেই, তারা এমনকি পারলে তাদের মূর্তি নিয়ে আমাদের মসজিদেও ঢুকে পড়তে চাইবে।

বিধর্মীরা বাবরি মসজিদের মেহরাবে রামের মূর্তি স্থাপন করেই দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে একবার উগ্র বিধর্মী সাঁওতালরা বাংলার সুলতানি আমলে নির্মিত ‘আদিনা মসজিদে’ হামলা চালিয়েছিল, যা ছিল একদা গোটা ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সেই মসজিদে হামলা চালিয়ে সেখানে কালী মূর্তি স্থাপন করেছিল এসব উগ্র বিধর্মী সাঁওতালরা।

গায়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক ঝামেলা পাকাতে পটু এই বিধর্মী সম্প্রদায়ের ব্যাপারে এদেশের মুসলমানরা মোটেই সচেতন নয়, যদি হতো তাহলে এদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরস্বতী পূজা হওয়ার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করতো। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নামে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক বিধর্মীদের প্রেসক্রিপশন মুতাবিক কাজ করে এদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরো বিষাক্ত করে তুলছে। আফসোস, মুসলমানরা কখনোই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...