দুনিয়া একটি মৃত প্রাণী থেকেও অতি নিকৃষ্ট
==============================
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِجَدْىٍ اَسَكَّ مَيِّتٍ فَقَالَ اَيُّكُمْ يُحِبُّ اَنَّ هذَا لَه بِدِرْهَمٍ فَقَالُوْا مَانُحِبُّ اَنَّه لَنَا بِشَىْءٍ قَالَ فَوَاللهِ لَلدُّنْيَا اَههْوَنُ عَلَى اللهِ مِنْ هذَا عَلَيْكُمْ (مسلم شريف)
অর্থঃ “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার একটা মৃত কানকাটা বকরীর বাচ্চার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন, তোমাদের কে আছে, যে এই মৃত কানকাটা বকরীর বাচ্চাকে এক দিরহামের বিনিময়ে কিনে নিতে পছন্দ করবে? উনারা (সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) বললেন, আমরা কোনো কিছুর বিনিময়ে এটাকে কিনে নিতে পছন্দ করবো না। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! মৃত প্রাণীটি তোমাদের কাছে যত নিকৃষ্ট মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এই দুনিয়া তার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট”। (মুসলিম শরীফ)
মূলতঃ মৃত বকরীর বাচ্চাটিকে গ্রহণ করলে যেমন গন্ধ আসবে, তেমনিভাবে দুনিয়া তালাশ করলে গুনাহ কামাই হবে। পা না ভিজিয়ে যেমন পানিতে নামা যায় না ঠিক তেমন গুনাহ ব্যতীত দুনিয়া হাসিল করা যায় না। আর গুনাহ করলে তার শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُونَ ﴿١٢٠﴾
“নিশ্চয়ই যারা গুনাহ করবে অতিশীঘ্রই তাদেরকে আমলের বদলা দেয়া হবে।”(পবিত্র সূরা আন’আম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-১২০)
পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةً (رواه الترمذي, احمد, ابن ماجه)
অর্থঃ হযরত সাহল ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি এই দুনিয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একটি মশার পাখার সমপরিমান মূল্য হত তাহলে তিনি কোনো কাফিরকে এক ঢোক পানি পান করাতেন না”। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ শরীফ)
দুনিয়ার কোনো মূল্য নেই বলেই মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে সব নিয়ামত এই দুনিয়াতেই ঢেলে দেন।
তাদের জন্য পরকালে জাহান্নামের আগুন ব্যতীত কিছু কিছুই থাকবে না। তাই দুনিয়া ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু কোনো কিছু গ্রহণ করলে তার বিপরীত অন্যটি ত্যাগ করা সম্ভব হয়। তাই সুন্নত মুবারক গ্রহণ করলে দুনিয়া ত্যাগ করা সম্ভব হয়। যে যত বেশি দুনিয়া ত্যাগ করতে পারবে সে তত বেশি মহান আল্লাহ পাক উনার মুহাব্বত-মারিফত, কুরবত হাসিল করতে পারবে।

No comments:
Post a Comment