Wednesday, February 9, 2022

সুন্নতি লিবাছ পরিধান করা ফরয মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।।

 সুন্নতি লিবাছ পরিধান করা ফরয মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।।



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করুন এবং যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকুন এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন। নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা।(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ; সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত তাক্বওয়ার পোশাক পরিধান করার ব্যাপারে তাকিদ দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

 يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ

অর্থ: হে বনী-আদম আমি আপনাদের জন্য পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা আপনাদের ইজ্জত-আবরুর আবৃত করে রাখেন এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং তাক্বওয়ার পোশাক, এটিই সর্বোত্তম। এটি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার অন্যতম নিদর্শন, যাতে উনারা চিন্তা-ফিকির করেন।(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আরাফ শরীফ; সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যার অন্তরে বিন্দু পরিমান অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি বললেন, সুন্দর পোষাক সুন্দর জুতা পরিধান করা কি অহংকার? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সুন্দর তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেছেন আর অহংকার হলো মহান আল্লাহ পাক উনার চাদর যে এটা নিয়ে টানাটানি করবে সে ধ্বংস হবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন, 

আপনাদের কারো পক্ষে সম্ভব হলে-নিজেদের সচরাচর পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া সম্মানিত জুমুয়া শরীফ উনার সম্মানিত নামায উনার জন্য পৃথক দুইটি সুন্দর সুন্নতি পোশাকের ব্যবস্থা করে নিবেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেসকল পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করেছেন এবং পরিধান করতে বলেছেন তাই সম্মানিত সুন্নতী পোশাক।

সম্মানিত সুন্নতী পোশাক-পরিচ্ছদ উনার পরিচিতি সম্পর্কে জানা এবং তা যথাযথ আমল করা ফরয। আর সেগুলো হলো:-

১। দায়িমী বা সার্বক্ষণিকভাবে মাথায় ইমামাহ বা পাগড়ী পরিধান করা, পাগড়ীর রং কালো, সাদা ও সবুজ।

২। পাগড়ীর উপর সাদা রংয়ের সম্মানিত সুন্নতি রুমাল পরিধান করা।

৩। চার টুকরাবিশিষ্ট সাদা সূতি মাথার সাথে লেগে থাকে, এমন টুপি দায়িমীভাবে পরিধান করা।

৪। লম্বায় নিছফুস সাক (হাঁটু ও পায়ে টাখনুর মাঝামাঝি) পরিমান, কোনাবন্ধ, গুটলীওয়ালা ক্বমীছ বা কোর্তা পরিধান করা।

৫। ইযার বা ফাঁড়া লুঙ্গি পরিধান করা। 

৬। টুপির নিচে তেল থেকে টুপিকে রক্ষার জন্য ক্বিনায়া বা তৈলপট্টি ব্যবহার করা।

৭। ক্রস ফিতাবিশিষ্ট চামড়ার না’লাঈন বা স্যন্ডেল ব্যবহার করা।

মোটকথা, সম্মানিত দ্বীন ইসলামে লিবাস বা পোশাকের গুরুত্ব অপরিসীম। পোশাক-পরিচ্ছদ যদিও বাহ্যিক বিষয় কিন্ত উহার হাক্বীক্বত অপরিসীম। অনেকে সম্মানিত ইসলামী পোশাক বা সম্মানিত সুন্নতি পোষাককে সৌদী, পাকিস্তানী বা হুযূরদের ইউনিফর্ম মনে করে থাকে। ফলে নামায-রোযা ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগী করলেও তারা সম্মানিত সুন্নতি পোশাক গ্রহণ করতে পারেন না।

কাজেই সম্মানিত সুন্নতি পোশাকের গুরুত্ব ও ফযীলত উপলব্ধি করতে হবে এবং সকলকেই সম্মানিত সুন্নতি পোশাক পরিধান করা ফরয মনে করে সম্মানিত আমল মুবারকটি করতে হবে।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...