মুসলিম স্থাপত্যর নিদর্শন বিশ্ব ঐতিহ্যের শোভা
‘মুহম্মদ পাশা সেতু’
মুহম্মদ পাশা সকোলভিচ সেতুটি ওসমানি সাম্রাজ্যের স্থাপত্য ও নির্মাণশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নিদর্শন। ইউরোপের মুসলমান-প্রধান দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার দ্রিনা নদীর উপরে সেতুটি অবস্থিত। ১৫৭৭ সালে উসামানীয় সালতানের সুলতান মুহম্মদ পাশা সোকোলোভিচের আদেশে সেতুটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
তুরস্কের ওসমানি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রায় পঁয়ত্রিশটি দেশে। ফলে সাম্রাজ্যের আওতাধীন দেশগুলোতে বিভিন্ন স্থাপত্য-কীর্তি ও নির্মাণশিল্প গড়ে তোলেন সালতানাতের সুলতানরা।
এই স্থাপত্যটি তুর্কি স্মারক স্থাপত্য এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক অনন্য নিদর্শন।
উসমানীয় সালতানের অন্যন্য স্থাপত্যকর্মগুলো পৃথিবীতে শোভা-সুন্দরের প্রতীক হয়ে আছে। সেগুলোরই অন্যতম একটি মুহম্মদ পাশা সকোলভিচ সেতু। দ্রিনা নদীর ওপর স্থাপিত সেতুটি বর্তমানে বিশ্ব সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।
সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৭৯.৫০ মিটার। আর সেতুর সড়কপথের প্রস্থ চার মিটার। বিশ্ববিখ্যাত কীর্তিমান উসমানীয় সালতানাতের স্থপতি মিমার সিনান পাশা এই সেতুটির নির্মাতা। তিনি ছিলেন ওসমানি স্থাপত্য-কর্মের এক কিংবদন্তী। বিখ্যাত এ সেতুটি মিমার সিনানের মহৎ শিল্পকর্মের অগ্রগতি বাড়িয়েছে। তিনি এতে পাথর ও চুন-সুরকির অনবদ্য মিশেলে তৈরি করেছেন ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সেতুতে খোদাইকৃত ও নিপুণ কুশলতায় মোড়ানো ১১টি খিলান রয়েছে।
দীর্ঘ জীবনে মিমার সিনান পাশা নির্মাণ করেছেন অবিস্মরণীয় সব মুসলিম স্থাপনা। বলা হয়ে থাকে, তুর্কী স্থাপত্যের রেনেসাঁর মূল কারিগর ছিলেন মিমার সিনান পাশা। তিনি কেবল একজন কঠোর অধ্যবসায়ী নির্মাতা ও অসামান্য প্রতিভাধর স্থপতি ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দ্বীন অনুগত সূফী মুসলিম, যিনি উনার গোটা জীবনব্যাপী দ্বীনি ইসলামী স্থাপনার গৌরব বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
সেতুর খিলানগুলো দেখতে ধনুকাকৃতির। দুই খিলানের মাঝের দূরত্ব (স্প্যান) ১১ থেকে ১৫ মিটার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেতুর তিনটি খিলান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পাঁচটি খিলান ধসে যায়। পরবর্তীতে অবশ্য খিলানগুলো পুনর্নিমাণ করা হয়। অন্যদিকে কয়েক বছর আগে ‘দ্য টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (TIKA) সেতুটি পুননির্মাণের জন্য ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়।
১৯৯২ খৃস্টাব্দে বসনিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে বসনিয়ার গনহত্যার সময় অসংখ্য মুসলমানকে নিষ্ঠুরভাবে শহীদ করা হয়। এ সেতু ক্রসেডদের সেই বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছে।
ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষে সেতুর নামকরণ করা হয় ওসমানি সা¤্রাজ্যের সুলতান সকোল্লু মুহম্মদ পাশার নামানুসারে। তিনি সুলতান প্রথম সোলায়মান ও সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের অধীনে সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান (16-03-2022)
Rajarbag Shareef Official
No comments:
Post a Comment