সুন্নতী তরতীবে বাইয়াত গ্রহণকারী ঈমানদাররাই সম্মানিত জান্নাত উনার অধিকারী
==================================
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের থেকে তাদের মাল ও জান খরিদ করে নিয়েছেন সম্মানিত জান্নাত উনার বিনিময়ে। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১১)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মনোনীত প্রতিনিধি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে উম্মতের যাবতীয় বিষয় সম্পাদ করিয়ে থাকেন। তদ্রƒপ সম্মানিত জান্নাতের বিনিময়ে মু’মিনদের জান-মাল খরিদ করার বিষয়টিও ঈমানের বাইয়াতের উপর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে বাইয়াত করিয়েছেন সেখানে সম্মানিত জান্নাত লাভের বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اُبَايِعُكُمْ عَلٰى اَنْ تَـمْنَعُوْنِـيْ مِـمَّا تَـمْنَعُوْنَ بِه نِسَائَكُمْ وَاَبْنَائَكُمْ: وَلَكُمُ الْجَنَّةُ
অর্থ: আমি এই শর্তে আপনাদেরকে বাইয়াত করছি যে, আপনারা আমার গোলামীর আঞ্জাম দিবেন যেরূপ আপনাদের আহলিয়া এবং সন্তানদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন (বরং তার চেয়ে বেশি দিতে হবে) । তাহলেই আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।”
আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বাইয়াতকালে যেসব শর্ত উল্লেখ করেছেন তাহলো-
اِنَّا بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فى النِّشَاطِ والْكَسَلِ، والنَّفَقَةِ فِى الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ، وَعَلٰى الاَمْرِ بِالْـمَعْرُوْفِ والْنَهْىِ عَنِ الْـمُنْكَرِ، وَعَلٰى أن نَقُوْلَ فِى اللهِ لَا تَـاْخُذُنَا فِيْهِ لَوْمَةُ لَائِمٍ.
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা এই শর্তে বাইয়াত গ্রহণ করছি যে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ অবশ্যই শুনব এবং অবশ্যই মানব ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক এবং প্রতিটি নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকবো- স্বচ্ছল হই বা অস্বচ্ছল হই। আর প্রতিটি সৎকাজে আদেশ করব অর্থাৎ প্রতিটি সুন্নত মুবারক পালন ও প্রচার করবো এবং অসৎ কাজে অর্থাৎ সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ বিদয়াত-বেশরা’, শিরক, কুফর, হারাম, কাজে নিষেধ করবো। আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য এ কাজগুলি করব। এ কাজগুলি করতে গিয়ে আমরা কোন নিন্দাকারীর নিন্দাকে পরওয়া করবো না।
স্মরণীয় যে, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাইয়াত করানোর অনুরূপ তরতীবে বর্তমানে যিনি বাইয়াত করাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম, স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি এবং আখাছ্ছুল খাছ আহলে বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না, উনার নিকট যারা বাইয়াত হবেন পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান উনাদের জন্যও সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ রয়েছে। বিষয়টি জানানো বা পৌঁছানোর দায়িত্ব আমাদের আর বিশ্বাস ও মানার বিষয়টি যার যার উনাদের উপর।
#12shareef
#Saiyidul_Aayaad_Shareef
#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ
No comments:
Post a Comment