তাকবীরে তাশরীক পাঠের নিয়মাবলী
===================================
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার একটি বিশেষ আমল হলো আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর পাঠ করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
واذكروا الله في أيام معدودات
তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে স্মরণ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২০৩) এখানে আইয়্যামে তাশরীকের পাঁচ দিন তথা পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস
উনার নয় তারিখ ‘আরাফার দিন’ থেকে তের তারিখ পর্যন্ত এই দিনগুলোতে প্রতি ফরয নামাযের পর তাকবীর পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে বলা হয়েছে।
যে প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن علي عليه السلام أنه سمع النبي ﷺ يقول التكبير دبر الصلاة -
المكتوبات
ইমামুল আউয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছেন, “তাকবীর হলো প্রত্যেক ফরয নামাযের পর।"
কিতাবে আরো এসেছে,
أن كان علي عليه السلام يكتر بعد صلوة الفجر من يوم عرفة إلى - صلوة العصر من أخر أيام التشريق يقول الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد - ابن ابي شيبه
নিশ্চয়ই ইমামুল আউয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি আরাফার দিন ফজর নামাযের পর থেকে ১৩ তারিখ আছর নামায পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। তিনি বলতেন,
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، و الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد
উল্লেখ্য, শহরে, গ্রামে-গঞ্জে, মুক্বীম-মুসাফির, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য মোট এই তেইশ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর উপরোক্ত তাকবীরটি একবার পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব।
তাই কারো এই ২৩ ওয়াক্তের কোনো ওয়াক্ত নামাজ ক্বাযা হলে আর তা এই ২৩ ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করলে এর সাথে তাকবীরও আদায় করে নিতে হবে। তবে এই ২৩ ওয়াক্তের ক্বাযা নামাজ পরবর্তীতে আদায় করলে তাকবীর ক্বাযা আদায় করতে হবে না। আবার এই তেইশ ওয়াক্তের মধ্যে আগের ক্বাযা নামায আদায়ের সময়ও এই তাকবীর পাঠ করতে হবেনা।

No comments:
Post a Comment