মুছাফাহা তথা হাতে হাত মিলানো এবং মুয়ানাকা তথা কোলাকুলি করা খাছ সুন্নত মুবারক
মুছাফাহা বা হাতে হাত মিলানো:
একজন মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাতান্তে সালাম বিনিময়ের পর সৌহার্দ্য ও মুহব্বত প্রকাশের মাধ্যমটির নাম হল মুছাফাহা। দেখা হলে মুছাফাহা বা করমর্দন করা একটি ইসলামী শরীয়ত উনার আইন ও উত্তম চরিত্র। এটি মুছাফাহাকারী ব্যক্তিদ্বয়ের মাঝে মুহব্বত-ভালবাসা ও হৃদ্যতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে এটি মুসলমানদের পারস্পারিক হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহ দূর করে দেয়। দুই হাতে মুছাফাহা করা খাছ সুন্নত মুবারক এবং এটা ছিল মুসলমানদের মাঝে ও হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মাঝে সাধারণ অভ্যাসগত সুন্নত।
মুছাফাহা করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক দ্বারা প্রমাণিত। আর এটি গুনাহ মাফ হওয়ার মাধ্যমও বটে। হযরত বারা ইবনে আযেব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন দু’জন মুসলমান পরস্পরে সাক্ষাৎকালে মুছাফাহা করে তখন তাদের পৃথক হওয়ার পূর্বেই উভয়ের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়’। (তিরমিযী শরীফ-২৭২৭ ‘অনুমতি প্রার্থনা’ অধ্যায় ‘মুছাফাহার বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ, সুনানে আবু দাউদ শরীফ -৫২১২)
হযরত ইবনে বাত্তাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: “সর্বস্তরের আলেমদের মতে, মুছাফাহা একটি নেক কাজ। ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: সাক্ষাতের সময় মুছাফাহা করা সুন্নত মর্মে ইজমা বা আলেমদের ঐক্যমত্য সংঘটিত হয়েছে।” (যেমনটি রয়েছে ‘ফাতহুল বারী’ ১১/৫৫)
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি:
মুয়ানাকা (معانَقَه) শব্দের অর্থ কোলাকুলি করা, বুকে বুক মিলানো। দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় হযরত ছাহাবায়ে-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশোদ মুবারক হয়েছে- উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, হযরত যায়েদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন পবিত্র মদিনা শরীফে এলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার ঘরে ছিলেন। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের কাপড় অর্থাৎ চাদর সামলাতে সামলাতে উঠে গেলেন এবং হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে মুয়ানাকা কোলাকুলি করলেন এবং বুছা দিলেন।’ (তিরমিযী শরীফ : ২৭৩২)
মুয়ানাকা বা কোলাকুলী করার সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে- প্রথমে ডান গলা মিলাবে, অতঃপর বাম গলা মিলাবে অতঃপর পুনঃরায় ডান গলা মিলাবে। অর্থাৎ মুয়ানাকা তিনবার আলাদা করাই আফযল বা উত্তম। অনেকে একবার মুয়ানাকার কথা বলে থাকে তা সঠিক নয়।
উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা অকাট্ট্যভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করা খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। যারা ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে পবিত্র ঈদের দিন বা অন্য যে কোনো সময় মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করতে নিষেধ করবে বা উক্ত আমল থেকে বিরত থাকবে তারা কুফরী করে মুরতাদে পরিণত হবে। তাছাড়া আমভাবে কোনো সুন্নতকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে,
اهانة السنة كقر
অর্থ: পবিত্র সুন্নত উনাকে ইহানত বা অবজ্ঞা করা কুফরী।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে উপরোক্ত কুফরী আক্বীদা থেকে হিফাজত করে পবিত্র সুন্নত মুতাবিক আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment