নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু করো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো।’ সুবহানাল্লাহ!
বাংলাদেশে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী মুতাবিক ১৩ই ছানী আশার ১৩৮৮ শামসী, ১২ই মে ২০২১ খৃঃ, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১, ৪, ৭, ১২ ১৪, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৫ তারিখ সম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সউদী ওহাবী, ইহুদী সরকার এবং তাদের অনুসারীরা যুগ যুগ ধরে চাঁদ না দেখে আরবী মাস শুরু করে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান-আমল অর্থাৎ পবিত্র রোযা, পবিত্র ঈদ, পবিত্র হজ্জ ইত্যাদি নষ্ট করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! বিশ্বের সকল মুসলমানদের উচিত এ ব্যাপারে বেশী বেশী তীব্র প্রতিবাদ করা।
আর সউদী ওহাবী, ইহুদী এবং সব দেশের সরকারের উচিত- খাছ তওবা করত: মনগড়া নিয়ম পরিহার করে পবিত্র শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করা।
ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, চাঁদ দেখা নিয়ে সমস্ত মুসলিম-অমুসলিম দেশের শাসক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকা জনগণের জন্য বিশেষ কর্তব্য। বিগত কয়েক যুগের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে- সউদী ইহুদী ওহাবী সরকার চাঁদ না দেখেই প্রতিটি আরবী মাসের তারিখ ঘোষণা করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! এই প্রবণতা কেবল সউদী আরবেরই নয়, বরং তার পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আবুধাবী (আরব আমিরাত), জর্ডান, সিরিয়া- এসব দেশেও আছে। এছাড়া অধিকাংশ মুসলিম দেশ আরবী মাস গণনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া ব্যবহার করে। অথচ সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস গণনা করা শর্ত। একটি বাতিল সম্প্রদায় একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের পক্ষে কথা বলে আরো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফলে চাঁদ তালাশের দিনে সকল জনগণকে অত্যান্ত সচেতন থাকতে হবে।
খালি চোখে চাঁদ না দেখে মনগড়া নিয়মে আরবী মাস শুরু করা এবং সউদী সরকারের গুমরাহী সম্পর্কে নছীহত মুবারক পেশ করতে গিয়ে তিনি উপরোক্ত ক্বওল শরীফ পেশ করেন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, চাঁদ নিয়ে সউদী ওহাবীদের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস নতুন নয়; তারা প্রতি বছরের প্রতিটি মাসেই এই গর্হিত কাজটি করে যাচ্ছে। সউদী ওহাবী সরকারের উচিত- এ বিষয়ে খালিছ তওবা করা এবং মুসলমানদের ঈমান ও আমল রক্ষার বিষয়ে সচেষ্ট থাকা।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম একটি ঈদ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায়ের খুশির দিন রয়েছে; আর মুসলমানদের ঈদ বা খুশির দিন হচ্ছে- পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা।’ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা উনার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” সুবহানাল্লাহ! এর অর্থ হলো, ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই সম্মানিত দিন অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ঈদুল ফিতর উনার দিনে যখন মুছল্লীরা ঈদের নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে জমায়েত হন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়, হে আমার বান্দারা! তোমরা আমারই রেযামন্দি মুবারক লাভের আশায় এক মাস রোযা রেখেছো এবং আজ আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের আশায় ঈদগাহে সমবেত হয়েছো। কাজেই আমি আজ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তোমরা আজ ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাও।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১লা তারিখ অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, বাহরুল উলূম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে অনেকগুলো আইয়্যামুল্লাহ শরীফ রয়েছে। যথা-
পবিত্র ৪ঠা শাওওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ৭ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ১২ই শাওওয়াল শরীফ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ ১২ই শরীফ। এ দিন কোটি কোটি কণ্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও পবিত্র তাবারুক বিতরণ করা হয়।
পবিত্র ১৪ই শাওওয়াল শরীফ ক) সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে ইমামুল আউওয়াল আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
খ) হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ১৮ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে যিন নূর আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবস্থায় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২০শে শাওওয়াল শরীফ উম্মুল মুমিনীন, হযরত আল খামীসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। তাই এ দিন আন্তর্জাতিক বাল্যবিবাহ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ প্রথমতঃ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ। দ্বিতীয়ত সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২৪শে শাওওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২৫শে শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করবে- আগামী ২৯শে রমাদ্বান শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৩ই ছানী আশার ১৩৮৮ শামসী, ১২ই মে ২০২১ খৃঃ. ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সন্ধ্যায় সেদিন চাঁদ দিগন্তরেখার মাত্র ০৫ ডিগ্রীর কিছু উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৭ ঘণ্টার কিছু বেশী। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬ টা ৩৩ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৭ টা ০৫ মিনিটে অর্থাৎ মাত্র ৩২ মিনিট চাঁদ আকাশে অবস্থান করে অস্ত যাবে। সেদিন চাঁদ অবস্থান করবে ২৮৮ ডিগ্রী আযিমাতে এবং সূর্যের অবস্থান থাকবে ২৯০ ডিগ্রী আযিমাতে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ৭ ডিগ্রী কোণ করে সূর্য থেকে সরে থাকবে এবং চাঁদের মাত্র ০০.৩৯% আলোকিত থাকবে। চাঁদের এরূপ মান থাকার কারণে সেদিন বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
-০-

No comments:
Post a Comment