Saturday, December 11, 2021

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা প্রসঙ্গে !!!

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা প্রসঙ্গে !!!



নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল নবী ও রসূলগণের রসূল হিসেবে আসার বিষয়টি যেমন সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ফযীলতের বিষয় ঠিক তেমনি উনি যে সকল সম্মানিত ব্যক্তিত্ববান মানুষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছেন অর্থাৎ উনার সম্মানিত পিতা মাতা সহ উপরের দিকের সকল পূর্ব পুরুষ-মহিলা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই তাওহীদপন্থী , ঈমানদার, নেককার, পরহেযগার ও চরিত্রবান ছিলেন। সুবহানাল্লাহ। উনার পূর্বপুরুষগণের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সম্মানিত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম। আর যারা নবী ও রসূল হিসেবে আসেননি, উনারা ছিলেন যার যার সময়কার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, সর্বশ্রেষ্ঠ মুত্তাকী। সুবহানাল্লাহ। 

এ বিষয় প্রমাণের জন্য একটি আয়াত শরীফই যথেষ্ট। পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ উনার ২১৯ নম্বর আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন 

“ আমি আপনাকে সিজদাকারী (তাওহীদপন্থী, ঈমানদার মুত্তাকী) গণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করেছি”। সুবহানাল্লাহ। 

আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন, “ আমি সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক হতে পবিত্রা রেহেম শরীফ উনাদের মাঝে স্থানান্তরিত হয়েছি। আমার সকল পূর্বপুরুষ ও মহিলা আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম পর্যন্ত অতীত হয়েছেন, উনারা কেহই কাফির ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ। (নূরে মুহাম্মাদী, মাওয়াহেব, যারকানী)। 

সাধারণভাবে যারা কোন নবী -রসূলগণের যুগ পাননি, যাদের নিকট পবিত্র দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছেনি এবং যারা দুইজন নবীর মধ্যবর্তী সময়ে ইন্তিকাল করেন এ সময়টাকে বলা হয় ফিত্রাতের যুগ। আর কার শাস্তি হবে আর কার শাস্তি হবে না- এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন 

“হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করা ছাড়া আমি কাউকে শাস্তি দেই না”। (সুরা বণী ইসরাইল, আয়াত শরীফ ১৫) 

এছাড়া পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ, আয়াত শরীফ ১৩১ এ মহান আল্লাহ পাক বলেন, “আপনার রব তায়ালা বা প্রতিপালক তিনি কোন জনপদবাসীকে অন্যায় অনবহিত অবস্থায় ধ্বংস করেন না”। 

সুতরাং দুই নবী আলাইহিমাস সালাম উনাদের মধ্যবর্তী সময়ে ইন্তিকালকারীগণ আহলে ফিতরাত বলে উনাদের হুকুম ব্যতিক্রম। অর্থাৎ তারা শুধু কুফরি ও শিরেকী থেকে মুক্ত থাকেন তাহলে আযাব বা শাস্তি থেকেও মুক্ত থাকবেন। (মাসালিকুল হুনাফা লিস সুয়ুতী)

সম্মানিত শরীয়তের ফতোয়া যদি এরুপ হয়ে থাকে তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের বিষয়টি কি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উনারা উভয়েই পবিত্র দ্বীনে হানীফের উপর কায়িম ছিলেন এবং উনারা কখনো তাওহীদবিরোধী কোন আমল করেন নি- এ বিষয়ে সকল ইমাম-মুজতাহিদ উনারা একমত ।

যমীনে সব সময়ই কিছু হকপন্থী লোক ছিলেন এবং থাকবেনঃ 

আহলে কিতাবগণের মধ্যে অনেকেই হক তালাশী ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফের ১১৩ নম্বর আয়াত শরীফে বলেন “ উনারা সবাই সমান নন। আহলে কিতাবগনের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছেন যারা রাতের একাংশে অবিচল ভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াত সমূহ তিলোয়াত করেন এবং সিজদাহ করেন”। 

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন “ প্রত্যেক যুগে সাত বা ততোধিক মুসলমান পৃথিবীতে বর্তমান ছিলেন যাদের বদৌলতে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর অধিবাসীগণকে মহান আল্লাহ পাক ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করেছেন। সুবহানাল্লাহ। 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে এই পৃথিবীতে সব যুগেই মহান আল্লাহ পাক উনার সাত বা ততোধিক খাছ বান্দা বর্তমান ছিলেন; উনাদের উছিলায় তিনি ভূপৃষ্ঠের অধিবাসীদের আযাব রহিত করেছেন”। 


এ পর্যায়ে আমি তিনজন বিখ্যাত ইমাম উনাদের কিতাব থেকে কিছু রেফারেন্স দিচ্ছি। 

আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত ফতওয়ায়ে শামী,

ইমাম করতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখিত তাযকিরাহ,

এবং ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখিত আন নি’মাতুল কুব রা আলাল আলাম থেকে ।


আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত ফতওয়ায়ে শামীতে আল্লামা নাছীরুদ্দিন বাগদাদীর বরাত দিয়ে উম্মুল মু’মিনীন হযরত সিদ্দিকা আলাইহসা সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন-

“ মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত পিতা মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের উভয়কে জীবিত করেন। অতঃপর উনারা উভয়েই পবিত্র ইসলাম কবুল করেন এবং সাহাবিয়াতের মর্যাদা লাভ করেন। পুনরায় ইন্তিকাল করেন। উনাদের উভয়ের জীবিত হওয়াটা ছিল হযরত ঈসা রুহুল্লা আলাইহিস সালাম উনার মৃতকে জীবিত করার ন্যায়’।

ইমাম করতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখিত তাযকিরাহ কিতাবে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত পিতা মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের উভয়কে এবং চাচা আবু তালিবকে জীবিত করেন। অতঃপর উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিস সালাম উনাদের উভয়ের পবিত্র ঈমানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন’। এই বিষয়টি ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আন নি’মাতুল কুব রা আলাল আলাম কিতাবে বর্ণনা করেন। উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যই এই ঘটনা সংঘটিত করা হয়। 

(চলবে)

#12shareef

#Saiyidul_Aayaad_Shareef

#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ ।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...