Wednesday, June 23, 2021

বাল্যবিবাহ বন্ধ করার দায়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ

 বাল্যবিবাহ বন্ধ করার দায়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ


-----------------------

খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ বন্ধ করার দায়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলম।

গতকাল ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার, ২২ জুন) এই আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে ‘বেলকুচিতে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ১১ মাসে ১০০ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ’ শিরোনামের একটি সংবাদে বাল্যবিবাহ বিদ্বেষী বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, এ রকম বক্তব্য দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত করবার অভিপ্রায়ে উপরোক্ত মতামত প্রচার করা হয়েছে।

যার কারণে আমরা সহ অগণিত দ্বীন ইসলাম পালনকারীদের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত হয়েছে, কেননা মুসলমানগণের যিনি সম্মানিত নবী ও রাসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে বাল্যবিবাহ মুবারক করেছেন। যা সকল ছিহাহ সিত্তাহসহ (পবিত্র বোখারী শরীফ, পবিত্র মুসলিম শরীফ, পবিত্র তিরমিযী শরীফ ও পবিত্র ইবনে মাযহা শরীফ, পবিত্র আবু দাউদ শরীফ, পবিত্র নাসায়ী শরীফ) প্রায় সকল পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ রয়েছে।

পবিত্র দ্বীন ইসলামে বিবাহের জন্য স্বামী বা স্ত্রীর বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, “তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা মাজুর হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক তাহলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস। এবং যারা এখনও বালিগা হওয়ার বয়সে পৌছেনি (নাবালিগা) তাদেরও একই হুকুম। " [সূরা ত্বলাক শরীফ: আয়াত শরীফ: ৪]

পবিত্র সূরা নিসা শরীফ ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের হক্ব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারজন পর্যন্ত।” [সূরা নিসা শরীফ: আয়াত শরীফ: ৩]

লিসানুল আরব অভিধানে ইয়াতীমের সংজ্ঞায় বর্ণিত আছে- “ইয়াতিম এমন সন্তানকে বলা হয়, যার পিতা মারা গিয়েছে, বালিগ হওয়া অবধি সে ইয়াতীম হিসেবে গণ্য হবে, বালিগা হওয়ার পর ইয়াতীম নামটি তার থেকে বিছিন্ন হয়ে যাবে। আর মেয়ে সন্তান বিয়ের পূর্ব পযর্ন্ত ইয়াতীম বলে গণ্য হবে, বিয়ের পর তাকে আর ইয়াতীম বলা হবে না।” [লিসানুল আরব ১২/৬৪৫]

আর পবিত্র হাদিস শরীফে বাল্যবিবাহ শুধু বৈধই নং বরং সুন্নত বলে প্রমাণিত। ছিহাহ সিত্তাহসহ সকল হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে- “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ বা বিবাহ সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স ছিল ৬ বছর। তিনি ৯ বছর বয়সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে একত্রে অবস্থান করেন।” (ছহীহুল বুখারী শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই বাল্যবিবাহ দিয়েছেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দুই মেয়ে উনাদের আক্বদ বা বিবাহ বাল্য বয়সেই করিয়েছিলেন।

যার ফলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালনকারী যে কোন মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করেন, বাল্যবিবাহ করা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র দ্বীন ইসলামেই মেয়েদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। আর সেই দ্বীন ইসলামে বিবাহের জন্য বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন সম্মানিত সুন্নত মুবারকের প্রতি বিদ্বেষ দেখানো অবশ্যই মুসলমানদের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল এবং এই কারণে উহা প্রচার করা অবশ্যই বাংলাদেশ দ-বিধির ২৯৫-ক ধারা মতে অপরাধ বটে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে স্বয়ং যে বাল্যবিবাহ করেছেন, বাল্যবিবাহ দিয়েছেন সে সম্পর্কে আপনি অত্র নোটিশ গ্রহীতা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষাত্মক বিরোধীতা দেখিয়ে উহার প্রচার করেছে। যা আমরাসহ অগণিত দ্বীন ইসলাম পালনকারী মুসলমানগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...