আমলে নাযাত না আক্বিদায় নাযাত
(পর্ব-১)
========================
অতীত যুগের কোন মুসলমান যদি এই প্রশ্নটি কোথাও উপস্থাপন করতো তৎখনাৎ তাকে প্রশ্ন করা হতো, “তুমি কবে থেকে মুসলমান, গতকাল থেকে না আজ থেকে?” কারণ একজন মুসলমান এমন সামান্য একটি বিষয়ে বেখবর থাকবে তা সে যুগে কল্পনাই করা যেতো না। বর্তমান আখেরী মানাতে এই প্রশ্নটির উত্তর সাধারণ মুসলমানতো অনেক পরের কথা, সমাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত শতকরা ৯০ ভাগ হুজুরই সম্ভবত বলতে পারবে না। তবে এ যুগের সাধারণ মুসলমানদেরকে দোষ দিয়ে কী লাভ? এরাতো ধর্ম ইসলাম শিখে হুজুরদের কাছ থেকেই। যদি তারা ভাগ্যক্রমে সঠিকভাবে জবাব দিতে সক্ষম হয়, অতঃপর যদি ২য় প্রশ্নটি করা হয় যে, ঈমান ও আক্বিদার মধ্যে পার্থক্য কী? এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই ব্যর্থ হবে সঠিক জবাব দিতে। প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থায়, কে আমাদেরকে সঠিক আক্বিদার
সাথে পরিচয় করাবে? এক্ষেত্রে প্রাথমিক চাহিদা হচ্ছে, এই বিষয়ে নিজেকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করা,
আমি কী ইসলমের সঠিক আক্বিদা ধারণ করি? এই প্রশ্নের ভিতরই সঠিক আক্বিদা অর্জন করার সূত্র নিহিত। এই কথাটি আর কেউ নয় মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, “যে আমাকে খুঁজবে তাকে আমার প্রাপ্তি সহজ করে দেব।” (সূরা শুরা:১৩) যেহেতু মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং বলেছেন উনাকে তালাশ করতে এ বিষয়ে আর দ্বিমতের সুযোগ নেই। অর্থাৎ অন্তরে হক্ব তালাশের আগ্রহ সৃষ্টি করা হচ্ছে মহান আল্লাহকে প্রাপ্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ। আর এই প্রথম পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থদের জন্য জান্নাত আশা করা হবে কল্পনার অলীক উদ্ভাবন। ইসলামের শক্রদের অবিরাম প্রচেষ্টা আর এ যুগের মুসলমানদের চেতনাহীনতার কারনে ইসলাম আজ ৭৩ ভাগে বিভক্ত। ইসলামের চরম শক্ররাই বর্তমানে সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় দিক নির্দেশনা দানকারীর দায়িত্ব পালন করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য শুনলে অধিকাংশ তথাকথিত মুসলমানরা ক্ষেপে উঠে। যেমন জাকির নায়েক, ধর্মীয় জ্ঞানে পারদর্শী এক সূক্ষ্ম আক্বিদা ধ্বংসকারী, সাধারণ মুসলমানেরা তা বুঝে না। [ লিংক:
http://www.rajibkhaja.com/zakirnaik ] কোন এক ভিডিওতে, এক প্রশ্নের উত্তরে সে বলে যে, মুসলমানদের মধ্যে কোন দল নেই কারণ, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিয়া, সুন্নী ছিলেন না। তাই ইসলামে বিভিন্ন দল, মত আছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। কি সাংঘাতিক সূক্ষ্ম এক
বিভ্রান্তি! যেখানে পরিষ্কার হাদীস শরীফ আছে, “ইহুদীরা ৭১ দলে, নাছারারা ৭২দল আর আমার
উম্মতেরা ৭৩ দলে বিভক্ত হবে।” [মুসলিম, মিশকাত শরীফ] আর সেখানে জাকির নায়েক বলছে,
মুসলমানদের মধ্যে কোন ভাগ নেই। সরাসরি হাদীস শরীফ অস্বীকার করা! এ যুগের কতজন মুসলমান এহেন মগজ ধোলাই থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম? জাকির নায়েক যে কাফির নায়েক জানতে ক্লিক করুন: [ http:// www.youtube.com/watch?v=0w6ofjiWLMI ] আসা যাক এবার আক্বিদা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসনে। হাদীস শরীফ অনুযায়ী, “আক্বিদাহ শুদ্ধ কর, অল্প আমলই
নাজাতের জন্য যথেষ্ট।” প্রশ্ন হচ্ছে, আক্বিদা বলতে কি বুঝায় তাই যদি না বুঝি, শুদ্ধ করবো কিভাবে? একজন খৃষ্টান হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী হিসেবে মানে ও বিশ্বাস করে, অর্থাৎ নবীর প্রতি তার ঈমান আছে বলেই সে খৃষ্টান, তবে তার আক্বিদা নষ্টের কারনে সে জাহান্নামী। তার
কী আক্বিদাহ নষ্ট(?) সে ধারণা করে, তার নবী স্বয়ং গড বা সৃষ্টিকর্তা। এই ভ্রান্ত আক্বিদার কারনেই
সে জাহান্নামী, ঈমান থাকা সত্বেও। এখন একজন মুসলমানেরও যদি তার নবী সম্বন্ধে আক্বিদায়
ক্রটি থাকে সে কোথায় যাবে? ঐ একই স্থানে, অর্থাৎ কঠিন জাহান্নাম। বর্তমান সময়ে মুসলমান সমাজে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে ৪ ধরনের আক্বিদাহ বিদ্যমান। একদল
বলে, নবীজি মহান আল্লাহ পাকের জাতি নূর দিয়ে তৈরী। পাকিস্তানে অবস্থিত ক্বদরীয়া তরিকার
অতি সুন্নিরা এহেন আক্বিদা পোষণ করে। দ্বিতীয় আক্বিদাটি হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বপ্রথম নূর দিয়ে সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে মানুষের
অবয়বে পৃিথবীতে প্রেরন করেন। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এই আক্বিদায় বিশ্বাসী। তৃতীয়
দলটি কোরান শরীফের একটি আয়াতের বরাত দিয়ে বলে, উনি মাটির তৈরী। এটা ওয়াহাবীদের আক্বিদা। অনেক টাকার বিনিময়ে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৌদী (ইহুদী) ওয়াহাবী রাজা এই ভ্রান্ত
আক্বিদা মুসলিম সমাজে আজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। চতুর্থ আক্বিদাটি হচ্ছে, নবী কিসের
তৈরী তা চিন্তা ফিকিরের প্রয়োজন নেই, আমল কর, আমল! আমলই তোমার জান্নাত নিশ্চিত করবে।
এটা তবলীগ জামাতের আক্বিদা অথচ নাজাতের একমাত্র চাহিদাই হচ্ছে আক্বিদার বিশুদ্ধতা। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মন্ধে এই চার ধরনের আক্বিদার মধ্যে শুধু মাত্র একটি আক্বিদাই সঠিক বাকী তিনটিই ভ্রান্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা সঠিক? কেউ যদি জান্নাত পেতে চায় তার জন্য ফরজ-ওয়াজিব হচ্ছে সঠিক আক্বিদাহ পোষণ করা।

No comments:
Post a Comment