_________________________________________
আজ এক দুই দিন থেকে নয়, যখন থেকে সরকার কুরবানীর হাট কমানো ও হাটগুলোকে শহরের বাইরে নেয়ার পরিকল্পনা করছে, তখন থেকেই দেশের সকল শ্রেণীর মুসলমানরাই এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তারা বিভিন্নভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু এ রকম একটি গণদাবিকে সরকারি আমলারা অগ্রাহ্য করেই আসছে। এ পর্যন্ত তারা কুরবানীর হাট বৃদ্ধি করা তো দূরের কথা, বরং আরো কমিয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। সিটি কর্পোরেশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণের এ দাবিকে বুঝতে পেরে ও জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১৬ সালে সরকারের নিকট আরো কয়েকটি কুরবানীর পশুর হাট বৃদ্ধির জন্য আবেদনও করেছিলেন। তাদের এ দাবির প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মেলার মাঠটিকে বরাদ্দ দেয়া হলেও কুরবানীবিরোধী কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সে বরাদ্দও বাতিল করে দেয়া হয়।
দেখা যাচ্ছে, সরকারি অধিকাংশ কর্তারা কুরবানীর হাট বৃদ্ধির বিষয়ে জনগণের দাবি সম্পূর্ণভাবেই অবগত আছে। কিন্তু কোনো একটি বিশেষ মহলের ভয়ে বা চাপের কারণে তারা দেশের কোটিকোটি মুসলমানদের দাবিকে অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে। অথবা এমনও হতে পারে সরকারি মূল কর্তাব্যক্তিদের আশেপাশে যেসব সহকারী আছে তাদের মাঝেই হয়তো ঘাপটি মেরে আছে ষড়যন্ত্রকারীরা। যারা কিনা মন্ত্রী এমপিদের নিকট ভুল বা বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করছে। অর্থাৎ জনগণের প্রকৃত দাবি কি সেটা তাদের জানতে দিচ্ছে না।
তবু আমরা বলবো, সরকারি কর্মকর্তাদের উচিত অতিশীঘ্রই দেশের কোটিকোটি মুসলমানদের দাবি ইচ্ছা আকাঙ্খাকেই প্রাধান্য দিয়ে কুরবানীর হাট বৃদ্ধি করা ও মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজেদের সুবিধামত স্থানে জবাই করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সরকারি কর্মকর্তাদের এটা মনে রাখতে হবে, অমুক তমুককে খুশি করতে গিয়ে মুসলমানদের কষ্ট দিলে তার জন্য অত্যন্ত কঠিন কাফফারা দিতে হবে। কারণ মুসলমানদের একমাত্র মালিক ও জিম্মাদার হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন; উনার ধরা অত্যন্ত কঠিন।

No comments:
Post a Comment