Saturday, June 20, 2020

সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভক্ত।








সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার উপকারিতা এবং তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ‘সূরা আহযাব’ শরীফ উনার ৩০ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা নিসা অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! নিশ্চয়ই আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” সুবহানাল্লাহ!

সুমহান বেমেছাল বরকতময় ২১শে শাওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস। সাইয়্যিাদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি একদিকে সাইয়িদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আরেকদিকে তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলুবাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূত-পবিত্রা নিসা অর্থাৎ হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম। 
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতুনা  উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ফযীলত অন্যান্য মহিলাদের উপর এত বেশি, যেমন খাদ্যের মধ্যে সারীদের ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পবিত্র দ্বীনী ইলম হুমায়রা হযরত উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে গ্রহণ করবে।” অর্থাৎ ওহী মুবারক নাযিল হওয়া ব্যতীত সমস্ত প্রকার ইলম উনার অধিকারী তিনি। সুবহানাল্লাহ! তোমরা উনার কাছ থেকে সমস্ত প্রকার ইলম শিক্ষা গ্রহণ করবে। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমেই বাল্যবিবাহকে সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত করেন। সুবহানাল্লাহ! কারণ উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয়েছে ৬ বৎসর বয়স মুবারক। তাই পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্যবিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার  আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু তাজউইজিল আবি ইবনাতাহু মিনাল ইমাম)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ব্রিটিশ সরকার বেনিয়াদ ১৯২৯ সালে আইন পাস করে, মেয়ে বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোন মেয়ে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দন্ডনীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করে। (নাঊযুবিল্লাহ) 

আর সেই আইনকে প্রয়োগ করার জন্য দেশের সরকার ও তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ প্রগতিবাদীরা উঠে পড়ে লেগেছে। অথচ সরকার প্রধানের পিতা-মাতার বিয়ে হয় বাল্য বয়সে। নিচে সেই ইতিহাসের কিছু অংশ বিশেষ এবং সূত্র দেয়া হলো- “১৯৩০ সালের ৮ই আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ফজিলাতুন্নেছা জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র তিন বছর বয়সে পিতা শেখ জহুরুল হক ও পাঁচ বছর বয়সে মাতা হোসনে আরা বেগমকে হারান তিনি। ১৯৩৮ সালে চাচাত ভাই (শেখ লুৎফর রহমানের পুত্র) শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বেগম ফজিলতুন্নেছার বিবাহ হয়। তখন মুজিবুরের বয়স ১৮ আর তার ৮। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন, শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা। আর পুত্রদের নাম শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল। 

তিনজন পুত্রই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাতে আঁততায়ীদের হাতে নিহত হন। সেই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার সময় ঘাতকরা পরিবারের অপরাপর সদ্যস্যদের সঙ্গে বেগম মুজিবকে নির্মমভাবে হত্যা করে।” 
(সূত্র: http://goo.gl/WmZASQ)

উল্লেখ্য, সে সময়ে বর্তমান আইন চালু থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দাদা-দাদী, নানা-নানী উনারা শাস্তি পেতেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দরদী দাবিদাররা কী তা ভালোভাবে নিতে পারবে? মূলত তা ভালোভাবে নেয়ার বিষয় ও নয়। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ের করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট বয়স করে দেয়া হয়নি। কাজেই পৃথিবীর কোন সরকার তা রাজতান্ত্রিক হোক অথবা সমাজতান্ত্রিক বা গণতান্ত্রিকই হোক অথবা নাস্তিকবাদী হোক অথবা অন্য কোনো মতবাদই হোক না কেন তাদের কাউকে কোন ক্ষমতা দেয়া হয় নাই যে, তারা সম্মানিত শরীয়ত উনার উপর হস্তক্ষেপ করে। আর বাংলাদেশের সরকারের জন্যও জায়িয হবে না, মহাসম্মানিত সুন্নত অর্থাৎ বাল্যবিবাহের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা। বরং এ সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে অতিসত্বর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন তুলে দিয়ে ‘বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত’ এ আইন জারি করা। কেননা মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “নেক কাজ শুধুমাত্র সৌভাগ্যবান বা নেককাররাই করতে পারে।”

বাল্যবিবাহ নিয়ে কাফির মুশরিকগুলো অপপ্রচার করে সাধারণ মানুষের মনে মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, বাল্যবিবাহ একটি অভিশাপ। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! ইহুদি-নাছারাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন মিডিয়া সংবাদ প্রচার করে এভাবে যে, বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেল ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। নাঊযুবিল্লাহ! সম্প্রতি আমেরিকায় যত শিশু জন্মেছে তার ৫৯ শতাংশের মা হলো বিবাহিত অর্থাৎ কুমারী মায়ের সংখ্যা ৪১ শতাংশ। ব্রিটেনে ২০০ বছরের মধ্যে বিয়ের আগে সন্তান জন্ম দেয়া এবং লিভ টুগেদার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বিয়ের আগে লিভ টুগেদার করছে অথবা বিয়ের চেষ্টা করছে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এ সংখ্যা ছিল ৩০ জনে একজন। ৩০ বছর পূর্বে বিয়ের আগের সন্তান হওয়াটা ছিল লজ্জাজনক।

কিন্তু এখন তা অনেকটা গা সওয়া। সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিজের (সিএসজে) গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় কুমারী মায়ের গর্ভে। এদিকে ব্রিটেনে ১৯৫০ সালে ৫ শতাংশ শিশু কুমারী মায়ের গর্ভে জন্ম নিতো। ১৯ শতকের শুরু থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা কম ছিল। ১৯৭০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ১০ এবং ১৯৯১ সালে ৩০ শতাংম। বর্তমানে এ সংখ্যা ৪৫ শতাংশ। 
উল্লেখ্য, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো কুমারী মাকে ঠিকই স্বীকৃতি দিচ্ছে। এমনকি যেসব অবৈধ সন্তানকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু স্বীকৃতি দিচ্ছে না বিয়েকে। অর্থাৎ হালালকে বন্ধ করে তারা হারামের দরজাই খুলে দিয়েছে। আর এটা মূলত সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করার জন্যই এ আইন করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
সারাবিশ্বে কাফির-মুশরিকদের দেশে কাফির-মুশরিকদের ছেলে-মেয়েরা বাল্য অবস্থায় সন্তান জন্ম দিচ্ছে। সেখানে তাদেন জন্য কোন আইন নেই। তাদের মেয়েরা অপুষ্টিতে ভোগেনা, সন্তান ধারণ করায় মৃত্যুর ঝুকি থাকে না, রোগ ব্যাধি হয় না ইত্যাদি। অথচ যখন কোন মুসলমান ছেলে-মেয়ে  সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সুন্নহ শরীফ উনাদের আলোকে বাল্যবিবাহ করছে তখনই সবসমস্যা হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

তথাকথিতত শিক্ষিত সমাজকে জেনে রাখতে হবে কাফির-মুশরিক গুলো তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্যই তাদের ছেলে-মেয়েদের লজ্জাহীনভাবে রাস্তার পশুদের মত মেলামিশায় নামিয়ে দিয়েছে। বিজেপির সহযোগী দল শিবসেনা ঘোষণা দিয়েছে ১০টার বেশি সন্তান থাকলে পুরস্কার দেওয়া হবে। অথচ ভারতে দৈনিক অপুষ্টিতে মারা যায় ৩ হাজার শিশু, আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায় ৩২ কোটি মানুষ। অথচ মুসলমান দেশে মুসলমান উনাদের সংখ্যা কমানোর জন্যই কাফির-মুশরিকগুলো বিভিন্ন আইন করে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ) এর পরেও সারা বিশ্বে মুসলমান উনারেদ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। (সুবহানাল্লাহ) বর্তমান সময়ে কাফির-মুশরিকগুলো চুরাবালির উপর অবস্থান করছে। তারা যতই মুসলমান বিদ্বেষী আইন জারি করছে তারা ততই চুরাবালির সাথে মিশে যাচ্ছে। এটা মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম কারামত মুবারক। (সুবহানাল্লাহ)

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেই বাল্যবিবাহ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাল্যবিবাহ স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী এ কথাটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। মুসলমান উনাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এই দিকে বিবেচনা করেই কাফির-মুশরিকগুলো এক শ্রেণীর তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ সৃষ্টি করেছে যেন তাদের দ্বারা এইগুলো প্রতিরোধ করা যায়। আবার এক শ্রেণীর ডাক্তারদের মাধ্যমে পয়সা দিয়ে বলাছে বাল্যবিবাহ ক্ষতিকর। (নাঊযুবিল্লাহ) একটি মেয়েকে শারীরিক বৃদ্ধি বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা ঠিক তখনই লাভ করে, যখন তার দেহে হরমোনের ও পুষ্টির সমতা সাধন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, একজন মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকে হরমোনের যে পরিবর্তন শুরু হয় তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যা ৯ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর পর্যন্ত বেড়ে তা আবার কমতে শুরু করে। সুতরাং সন্তানধারণ বলেন, বাচ্চাকে দুগ্ধপান বলেন, কিংবা বাচ্চাকে নরমাল ডেলিভারি বলেন, প্রত্যেকটি বিষয়ই হরমোনের সাথে জড়িত। আর তাই সুস্থ সবল মা আর শিশু পেতে চাই। বাল্যবিবাহের কোনো বিকল্প নেই। যারা বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করে তারা নেহাৎ জোর করেই এর বিরোধিতা করে।
২৫ বছরের পর বিয়ে হওয়াতে অনেক মেয়ে যে আজ মা হতে পারছে না, বেশি বয়সে মা হতে গিয়ে যে সিজার অপরেশন ব্যতীত বাচ্চা হচ্ছে না। সিজার অপরেশনের সাহায্যে সন্তান হলে মায়ের হরমোনের পরিবর্তন ঠিকমতো না হওয়াই পরিবর্তীতে ডায়বেটিস, প্রেসার, টিউমারসহ ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সিজারের মায়েরা অনেকেই তাদের সন্তানদের ঠিকমতো বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। যা শিশুদের পুষ্টিহীনতার কারণ। এগুলোকি কারো চোখে পড়ে না। নাকি বাল্যবিবাহ বিরোধিরা চায় না আমাদের মা-বোনেরা সুস্থ থাকুক, সুস্থ শিশু জন্ম দান করুক? যারা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার করে, তারা কখনোই দেশ, জাতি ও সমাজের ভাল চায় না। 

এছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই আসলে বাল্যবিবাহকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। অমুসলিম দেশগুলোতে এর উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে বাল্যবিবাহে উৎসাহ প্রদান করে থাকে। আর আমাদের দেশে শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষতির অজু হাত দিয়ে বাল্যবিবাহে নিরুৎসাহী করা হয়ে থাকে। 

উদাহরণস্বরূপ নিচে কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা উল্লেখ করা হলো-
এক. ১৯৯৩ সালে পেরুর টিকারপো শহরে লিনা মেডিনা নামের একটি শিশু মাত্র ৫ বছর ৭ মাস ১৭ দিন বয়সে জেরারডো নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি চমকে দিয়েছিল সবাইকে। কাগজে-কলমে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী মা পেরুর লিনা মেডিনা জন্ম দিয়েছিল একদম সুস্থ একটি ছেলে সন্তান। ‘ডেইলি মিরর’ নামক পত্রিকায় খবরটি প্রথম প্রকাশ করে পরে আমাদের দেশী অনেক পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ করে। 

দুই. ১২ বছরে মা আর আর ১৩ বছরে বাবা হয়ে ব্রিটেনের সব থেকে কম-বয়সী পিতা-মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এক শিশু দম্পতি। মাত্র ১২ বছর ৪ মাস বয়সে মেয়েটি ১৭পাউন্ড ওজনের সুস্থ কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে। সন্তানের বাবা ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। মেয়েটির বাবা জানায়, আজ কালকার বাচ্চারা বড় হতে হতে বয়ফ্রেন্ড জুটিয়ে ফেলে। আর তারা যদি পিতা-মাতার অগোচরে শারীরিক সম্পর্কে স্থাপন করে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। বরং তার আগেই বিয়ে করিয়ে দেওয়া ভাল। সে নিজেকে এখন গর্বিত নানা হিসেবে ভাবছে। এলবিসি রেডিও চ্যানেলে সে এসব কথা জানায়। (তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ ১৮ই এপ্রিল ২০১৪)
তিন. ব্রিটেনে ১২ বছরের কিশোরী ‘মা’ হতে চলেছে। ঐ কিশোরী ১৯ বছরের এক কিশোরের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে এবং এতে সে গর্ভবর্তী হয়। (সূত্র: ঢাকা টাইমস, ০৭-১০-২০১৫)

চার. বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর “বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর” এই জাদুঘরে ১৯৩০ সালে মহিপুর আলম এস্টেটের পুত্রবধু মারহুমা জেবুন্নেছার ব্যবহৃত ফ্রক রয়েছে। তার বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে সাব্যস্ত। অর্থাৎ তার ব্যবহৃত ফ্রক বাল্যবিবাহের নিদর্শন বহন করছে। (তথ্যসূত্র: বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর মুসলিম নিদর্শন গ্যালারী নং ০৯)

এরকম ঘটনার উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। অধিক বয়সে বিয়ে করলে ডাউন সিনড্রোম(প্রতিবন্ধী) সন্তান জন্ম হওয়ার সম্ভবনা বেশি। সুন্নতী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ফলে দেশে প্রতিবন্ধী, অক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পক্ষান্তরে দেশ বুদ্ধিমান ও কর্মক্ষম প্রজন্ম হারাচ্ছে। ডাউন সিনড্রোম (কাঙ্খিত মাত্রায় বেড়ে না ওঠা) শিশু বা সাধারণত প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে 
বেচে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোট অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর পাঁচ হাজার ডাউন সিনড্রোম শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু এই ডাউন সিনড্রোম হওয়ার নেপথ্যে কি কারণ থাকে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের যত বেশি বয়সে বিয়ে হয় বা যত বেশি বয়সে মা হবেন তার সন্তানোরও ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মের আশঙ্কা তত বেশি। এতএব, সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্যবিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। তাই সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হল বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বাতিল করা। আর প্রত্যেক মুসলমান বিশেষ করে মহিলাদের জন্য ফরজ হচ্ছে প্রতিক্ষেত্রে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা। অনুরূপভাবে বর্তমানে যিনি উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ অনুকরণ করেন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে অনুসরণ অনুকরণ করা।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...