বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান
(ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার)
হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র পদক্ষেপ মুবারক:
ইলম অর্জন তথা শিক্ষার প্রতি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ থেকে শিক্ষার অনুপ্রেরণা পেয়ে মুসলিম উম্মাহ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিস্তারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নের জন্য যে সব বাস্তব, কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাহলো-
১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন আর তাই্ দ্বীনি মুয়াল্লিম ব্যক্তির হাশর-নশর আমার সাথে হবে। (ইবনে মাজাহ শরীফ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলম অর্জনকে অত্যাধিক গুরুত্ব মুবারক দিতেন। আদেশ এবং নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত জিন্দেগী মুবারকে সবাইকে ইলম অর্জনের জন্য তাগিদ মুবারক দিয়ে গেছেন। উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক ছিলেন ইলম উনার খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অত্যন্ত নিরিবিলি স্থানে অবস্থিত হযরত আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ি মুবারকে প্রতিষ্ঠা করা হয় সম্মানিত দারুল আরকাম শরীফ। যা ইলম অর্জনের একটি আলোকবর্তিকা ছিলেন। এখানে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একত্রিত হয়ে সম্মানিত ইলম মুবারক গ্রহণ করতেন, চর্চা মুবারক করতেন, নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। সুবহানাল্লাহ!
যারা প্রাথমিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতেন উনারা দারুল আকরাম শরীফেই পবিত্র ইলম মুবারক অর্জন করতেন। নতুন কোন গোত্রের লোক দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের শিক্ষা দানের জন্য হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রেরণ করা হতো। এভাবে গোত্রে গোত্রে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষায়তন গড়ে উঠতে থাকে।
মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক উনার পর পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ইলম উনার এক মহাকেন্দ্র হিসেবে রূপ লাভ করেন। মসজিদে নববী শরীফ উনার প্রাঙ্গণে ‘আল সুফফা’ নামে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ এখানে ইলম অর্জনের জন্য আসতেন। অনেক ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আল সুফফা উনার আজীবন আবাসিক ত্বলীব এবং মুয়াল্লিম উনাদের ভূমিকায় ছিলেন। আল সুফফা উনার ব্যয় বহন করা হতো পবিত্র বাইতুল মাল শরীফ থেকে। কূফা, বসরা, সিরিয়া, মিসর, রোম, পারস্য প্রভৃতি স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীরা পবিত্র মদীনা শরীফে এসে ভীড় জমাতেন।
এক কথায়, সভ্যতার মূলত সৃষ্টিই হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম দয়া ইহসান মুবারকে। তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, পবিত্র বদরের জিহাদে শিক্ষিত যুদ্ধ বন্দীদের মুক্তিপণ নির্ধারণ করেছিলেনÑ কয়েকজন মুসলমানকে শিক্ষা প্রদানের করার মাধ্যমে।
হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস
সালাম উনাদের পদক্ষেপ:
শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেন। আমিরুল মুমিনীন হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম উনার অসামান্য পরামর্শ মুবারকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে গ্রন্থাকারে একত্রে সংকলনের মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও উক্ত পবিত্র কাজে অংশগ্রহণ মুবারক করেছিলেন। পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পঠনরীতিতে পবিত্র কুরআন শরীফ সংকলন মুবারক করেন। হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের যুগে রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোথাও সেনাবাহিনী প্রেরণের সময় সেনাপ্রধান নিয়োগ করা হত- শিক্ষিত অভিজ্ঞ নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে। উনারা বিজিত অঞ্চলে শিক্ষা দানে ব্যাপৃত হতেন। হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত খিলাফত উনার বিভিন্ন অঞ্চলে জনসাধারণকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা দানের জন্য উপযুক্ত উস্তাদ নিয়োগ করতেন এবং বাইতুল মাল থেকে উনাদের বেতন-ভাতা দিতেন। বাস্তুহারা অনগ্রসর বেদুইনদের জন্য হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ অধ্যয়নে গাফিলতিতে শাস্তির ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলো। সুবহানাল্লাহ!
সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান
Rajarbag Shareef Official

No comments:
Post a Comment