পবিত্র আশুরা শরীফ আমাদেরকে যা শিক্ষা দেয়
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইমাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিক্বামাত থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদতী শান মুবারক গ্রহণ করে শাহাদাতী শান মুবারককে বুলন্দ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু ফাসিক-ফুজ্জার সরকার ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফিরটার কাছে বাইয়াত হননি। অনুরুপ বর্তমান সময়েও কোন ফাসিক-ফুজ্জার সরকারের আদেশ-নিষেধ পালন করা যাবে না এবং বিদায়াতী, বাতিলদের কাছে বাইয়াত হওয়া যাবে না। এই দৃষ্টান্ত মুবারক পরবর্তী উম¥তের কামিয়াবী হাছিলের জন্য এক মহান শিক্ষা।
এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিনটি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদতী শান মুবারক গ্রহণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি মুহব্বত মুবারক করার উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে।
জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ না করে উনার প্রতি সুধারণা পোষণ করা।
এ দিন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিজয় সুনিশ্চিত হয় এবং কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী ফেরাউন ও তার দল-বলসহ ধ্বংস হয়।
হক্বের উপর ইস্তেক্বামাত থাকলে বিজয় নিশ্চিত হয় আর বাতিল-বিধর্মীদের ধ্বংস অনিবার্য। এ আক্বীদা মুবারক শিক্ষা দেয়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দুটি রোজা রাখলে পুর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেন এবং ষাট বৎসর রাতে ইবাদত বন্দেগী ও দিনে রোজা রাখার ফযীলত দান করেন।
এ দিনে একজন রোযাদারকে ইফতার করালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূও পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল উম্মতকে ইফতার করানোর ছাওয়াব পাওয়া যায়।
এ দিনে কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত স্পর্শ করে, কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাতী দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং ‘সালসাবীল’ ঝর্ণা থেকে পানীয় (শরবত) পান করাবেন।”
আশুরা মিনাল মুহররম শরীফ উনাকে তাযীম-তাকরীম মুবারক করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ!
এ দিনে ভালো খাবার খেলে, পরিবারের জন্য খরচ করলে সারা বছর সচ্ছলতা পাওয়া যায়।
এ দিনে গোসল করলে এক বছর মৃত্যু রোগ ব্যতীত সকল রোগ থেকে শিফা পাওয়া যায় এবং অলসতা, দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
এ দিনে চোখে সুরমা দিলে এক বছর চোখের কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এ দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেক আমল করার উৎসাহ জাগিয়ে তোলে।
এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিশেষ বিশেষ শান মুবারক যাহির করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকে এসে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররম উনার পরিপূর্ণ হিচ্ছা মুবারক দান করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment