সন্তানকে শিশুকাল থেকে সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা করাতে হবে
================================================
“ইহুদী-নাছারা, বেদ্বীন-বদদ্বীন এবং বদ আক্বীদার লোকদের অনুসরণ, অনুকরণ করা নাজায়িয-হারাম।” কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ليس منا من تشبه بغيرنا لا تشبهوا اليهود ولا باالنصارى
অর্থ: “যারা আমাদের আদর্শ ছেড়ে অন্যের সাথে সদৃশ্য রাখে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। সুতরাং তোমরা ইহুদী-নাছারাদের সাথে সদৃশ্য রেখো না।”
কাজেই, সন্তানকে শৈশবকাল থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণ) করাতে হবে। সম্মানিত সুন্নত উনার খিলাফ কোন কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা,, আচার-আচরণ করতে দেয়া যাবে না। কেননা যেটা সম্মানিত সুন্নত উনার খিলাফ সেটাই বিদয়াত। আর বিদয়াতীরা গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট। কোনক্রমেই সন্তান-সন্ততিদেরকে বিদয়াত কাজ করতে দেয়া যাবেনা।
শিশু সন্তানদের মন ও মনন উর্বর জমির ন্যায়। তাতে যেরূপ বীজ বপন করা হবে সেরূপ ফুল ফল, ফসল উৎপাদিত হবে। শৈশবে খারাপ বীজ বপন করলে পরিণত বয়সে ভাল কিছুর আশা করা দুরাশায় পর্যবসিত হবে। কথায় বলে “কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, শেষে করে ঠাস ঠাস।”
মা-বাবা হচ্ছেন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ উস্তাদ। কাজেই, মা-বাবা শিশুকালে তাদের অন্তরে সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার বীজ বপন করলে পরিণত বয়সে পরিপুর্ণ সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ-অনুকরণকারী রূপে গড়ে উঠবে। বিদয়াত ও বিদয়াতীদের প্রতি অন্তরে ঘৃণা পয়দা হবে। তখন বেদ্বীন-বদদ্বীনদের অনুসরণ-অনুকরণ করার বিষয়টা অন্তরে কখনো স্থান পাবে না।
অনেক মা-বাবা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। মনে করেন, বড় হলে সন্তানরা আপসে আপ সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা করবে। ফলে সন্তান বিদয়াত-বেশরা আমলের মাধ্যমে বড় হয়। তখন পরিণত বয়সে মুসলমানদের রীতি-নীতি, তর্জ তরীক্বা তাদের ভালো লাগে না। নাউযুবিল্লাহ! ফলে সে নাস্তিক বা বেদ্বীন-বদদ্বীন অথবা বদ আক্বীদা ও বদ মাযহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই, সন্তানকে শৈশবকাল থেকেই সম্মানিত সুন্নত মুবারক আদায়ের প্রতি যত্নশীল করে গড়ে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার একান্ত দায়িত্ব কর্তব্য। যেমন, সন্তানকে ডান হাত দ্বারা পানাহার করাবে এবং করতে বলবে। কখনো ভুলে যদি বাম হাত দিয়ে পানাহার করে তাহলে সাথে সাথে সংশোধন করতে হবে। বলতে হবে, ডান হাত দ্বারা পানাহার করা সুন্নত। বাম হাত দ্বারা পানাহার করা শয়তানের কাজ। আর শয়তান আমাদের প্রধান শত্রু। শয়তানের অনুসরণ করলে জাহান্নামে যেতে হবে। জাহান্নাম হচ্ছে কঠিন আযাব-গযবের স্থান। যেখানে সাপ-বিচ্ছু, পোকা-মাকড় ইত্যাদি আছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সন্তানদের শিশুকাল থেকে সুন্নত মোতাবেক দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তুলার তাওফিক দান করেন। আমীন।
No comments:
Post a Comment