শিশু সন্তানের কানে আযান-ইক্বামত বলা সুন্নত
==========================================
সন্তান ভুমিষ্ট হবার পর তার কানে আযান-ইক্বামত দেয়া একটি সুন্নত আমল এবং ইসলামী তাহযীবের অন্তর্ভুক্ত।
ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান প্রত্যেকের জন্মগ্রহণের পর নাড়ী কেটে, গোসল করিয়ে তারপর ডান কানে আযান ও বাম কানে ইক্বামত বলতে হয়।
সন্তান দুনিয়ায় আগমনের পরমুহূর্তে তার নিকট তার যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার মহিমা এবং উনার যিনি শ্রেষ্ঠতম নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমা ঘোষণা করার উদ্দেশ্যেই আযান ও ইক্বামত বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুনিয়ায় এসেই শিশুর কানে মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদ মুবারক ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রিসালাত মুবারক ধ্বণিত হলো যাতে করে দুনিয়ায় অবস্থানকালে এবং দুনিয়া হতে বিদায়গ্রহণকালে সর্ব অবস্থায় তার মুখে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাম মুবারক ও উনাদের ছানা ছিফত মুবারক উচ্চারিত হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক নামে বান্দা ও উম্মতের জীবনের সূচনা এবং উনাদের মুবারক নামেই জীবনের অবসান এটাই ইসলামী বা মুসলমানী জিন্দেগীর রূপরেখা।
ক্বীমিয়ায়ে সাআদাত কিতাবে শিশু সন্তানের কানে আযান ও ইক্বামত বলার ফায়দা সম্পর্কে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, শিশুরা সাধারণত রোগ প্রবণ হয়ে থাকে। তাদের কানে আযান ও ইক্বামত বলা হলে উনাদের বরকতে তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে তারা নানারকম রোগ-বিমারী হতে নিরাপদ থাকে। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, শিশু সন্তানের কানে যে আযান-ইক্বামত বলা হয় এটাকে তা’যীন বলে। এ আযান-ইক্বামত উনাদের বাক্যসমূহ আর সম্মানিত নামায উনার আযান ও ইক্বামত উনাদের বাক্যসমূহের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। যেমন এ আযানের বাক্যসমূহ ফজরের আযানের মতো না হয়ে অন্যান্য ওয়াক্তের আযানের বাক্যসমূহের ন্যায় হবে। আর এ ইক্বামত উনার মধ্যে “ক্বদ ক্বামাতিছ ছলাহ” বলতে হবে না। তদ্রূপ বলার ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ সম্মানিত নামায উনার আযান ও ইক্বামত যেভাবে উচ্চস্বরে দিতে হয় সেভাবে উচ্চস্বরে সন্তানের কানে আযান ও ইক্বামত বলতে হয় না। বরং স্বাভাবিক ও অল্প স্বরে আযান ও ইক্বামত বলতে হবে। আযান উনার বাক্যসমূহ ইক্বামত অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ ও স্বাভাবিক স্বরে বলতে হবে যেনো আযান ও ইক্বামত উনাদের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।
মহান আল্লাহ পাক সকলকে সুন্নত মোতাবেক জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment