Sunday, September 5, 2021

দুনিয়া হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত্র

 দুনিয়া হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত্র

=================================

দুনিয়াদার মানুষের ইন্তিকালের পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ সাধারণত: হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিয়তের অপরিশুদ্ধতা, আক্বীদার বিপর্যস্ততা, সম্মানিত সুন্নত উনার প্রতি অনীহা, নেক আমলহীনতা, অসৎ উপার্জন, হারামের প্রতি আসক্তি ইত্যাদি নানাবিধ কারণে জীবদ্দশায় দুনিয়াদার মানুষের জীবন নির্বাহ সম্পূর্ণরূপে গাইরুল্লাহ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম


উনাদের কোপানলগ্রস্ত হয়ে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের বাসিন্দা হয়ে যায়। প্রেক্ষিত কারণে মরণের পরে তার রেখে যাওয়া সম্পদ হাক্বীক্বী নেক কাজে ব্যয় হওয়ার নযীর কখনোই দেখা যায় না। নাউযুবিল্লাহ!


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে:


الدنياء مزرعة الاخرة


অর্থ: “দুনিয়া হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত্র।” আখিরাতে মানুষের সম্যক পরিণতি দুনিয়ায় জানা না গেলেও ঈমান, আক্বীদা, ইখলাছ এবং সম্পাদিত বাহ্যিক আমলের সূক্ষ্ম দর্শনে তার অবস্থা অনুভব করা যায়। এসব উপলব্ধি করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না হলেও মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের সূক্ষ্মদর্শিতায় দুনিয়াদার মানুষের হাক্বীক্বত জানা একান্তই সহজসাধ্য। কারণ দুনিয়াদার মানুষের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পরিণতি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে কোন একদিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি বড় আকারের উটের বাথান ছিল। বাথানের উটগুলো ছিল খুবই হৃষ্টপুষ্ট। সেখানে এমন অনেক উট ছিল যাদের বাচ্চার দেয়ার সময় হয়েছিল। এই জাতীয় উট আরবের এক উৎকৃষ্ট সম্পদ। বাথানটির প্রতি দৃষ্টি মুবারক পড়ার সাথে সাথে তিনি দৃষ্টি মুবারক ফিরিয়ে নিলেন। ইহা দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহা অতি উত্তম সম্পদ! ইহা দিকে দৃষ্টি মুবারক পড়ার সাথে সাথে আপনি দৃষ্টি মুবারক ফিরিয়ে নিলেন কেন?


তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে পার্থিব ধন সম্পদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন-


ولا تمدن عينيك الى ما متعنا به ازواجا منهم زهرة الحياة الدنيا لنفتنهم فيه ورزق ربك خير وابقى


অর্থ: (হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ঐ সকল বস্তুর প্রতি কখনো আপনার চক্ষু মুবারক তুলেও তাকাবেন না যা মানবজাতির বহু সম্প্রদায়কে উপভোগের জন্য দেয়া হয়েছে। ইহা পার্থিব জীবনের শোভা বর্ধনকারী। যা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করা উদ্দেশ্য। আপনার জন্য আপনর রব তায়ালা যে রিযিক মুবারক নির্ধারণ করেছেন তা অতি উত্তম ও চিরস্থায়ী। (পবিত্র সূরা ত্ব-হা: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩১)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, যখন কোন লোককে মৌনতা অবলম্বনকারী (স্বল্পভাষী) এবং দুনিয়া বিরাগী (মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের একমাত্র সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিলের নিমিত্তে সংসার জীবন যাপনকারী) দেখতে পাবে তখন উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করবে। কেননা হিকমত (তত্ত্বজ্ঞান) উনাদের সাথেই সাক্ষাত করে।


আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন


ومن يؤت الحكمة فقد اوتى خيرا كثيرا


অর্থ: “যাকে হিকমত দেয়া হয়েছে তাকে খইরে কাছীর (প্রভূত কল্যাণ) দেয়া হয়েছে।”


এর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেছেন, “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত দুনিয়া বিরাগী হয়ে থাকতে পারবে তার মন ও মননকে মহান আল্লাহ পাক হিকমতের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিবেন এবং তার যবানকে হিকমতের বাগ্মীতায় পূর্ণ করে দিবেন। (ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন-৭/৩১৩)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “দুনিয়া বিরাগী এবং হারামের ভয়ে ভীত এই দুটি বিষয় মানুষের হৃদয়ের মধ্যে প্রতিরাতে নূর বা আলো দান করে। যদি এ দুটি বস্তু এমন হৃদয় দেখতে পায় যার মধ্যে ঈমান ও লজ্জা থাকে তবে তারা উভয়ে সেই হৃদয়ে অবস্থান করে। আর এরূপ হৃদয় দেখতে না পেলে তখনই চলে যায়।” (ইহয়াউল উলূমিদ্দীন-৭/৩১৩)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “দানশীল ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী, লোকের নিকটবর্তী এবং জান্নাতের নিকটবর্তী, জাহান্নাম থেকে দূরে। আর বখীল বা কৃপন লোক মহান আল্লাহ পাক থেকে দূরে, লোকদের থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, জাহান্নামের নিকটবর্তী। বখীল বা কৃপনতা দুনিয়ার প্রতি আসক্তির ফল এবং দানশীলতা দুনিয়ার প্রতি বিরাগীর ফল।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...