Thursday, August 12, 2021

পবিত্র আশুরা শরীফ উনার অন্যতম শিক্ষা:

 পবিত্র আশুরা শরীফ উনার অন্যতম শিক্ষা:



কোন আমল ভালো তথা নেক আমল হলেও বেদ্বীন-বদ্বীনদের সাথে মিল রেখে করা যাবে না


রোযা কিন্তু নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এই রোযাও ক্ষেত্রবিশেষে ইহুদী নাছারাদের সাথে মিল রেখে করতে নিষেধ করা হয়েছে। যদিও এটা নেকআমল কিন্তু বেদ্বীন-বদ্বীনদের সাথে মিল রেখে রোযা রাখলে তা গ্রহণীয় হবে না।


পবিত্র আশুরার দিনে রোযা রাখা সুন্নত। পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে এ রোযা ফরয ছিল। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আশুরার দিন মাত্র একটি রোযা রাখা নিশেষ করা হয়েছে এবং দুটি রোযা রাখতে বলা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, 


صُومُوا يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَخَالِفُوا فِيهِ الْيَهُودَ صُومُوا قَبْلَهُ يَوْمًا أَوْ بَعْدَهُ يَوْمًا


অর্থ: তোমরা আশুরার দিন রোযা রাখ, তবে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা কর। হয় তার পূর্বের দিন রোযা রাখ অথবা তার পরের দিন। (মুসনাদে আহমদ শরীফ- ২১৫৪)

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, উক্ত হাদীছ শরীফে অমুসলিম বেদ্বীন ও বদদ্বীনদের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছে। অথচ আজ কথিত মুসলমানরা অমুসলিমদের রীতিনীতি ও কালচার কদমে কদমে অনুসরণ করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!


ইয়াহূদীদের সাথে উক্ত সাদৃশ্যতা বড় কোন বিষয়ে বা নাজায়েয কোন কাজে ছিল না। বরং একটি ইবাদত ছিল। একটি নেক আমল ছিল।


অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতটুকুও বরদাশত করেননি। আজ কথিত মুসলমানরা অমুসলিমদের পদাঙ্ক অনুসরণে গর্ববোধ করে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,


مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ


অর্থ: যে ব্যক্তি কোন জাতীর সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে। (আবূ দাউদ শরীফ- ৪০৩৩)


কাজেই ইহুদী, নাছারা, মূর্তিপুজারী, বৌদ্ধ, মজুসী, মুশরিকদের কোন কাজ তো বটেই, বরং কোন নেকআমলও তাদের সাথে মিল রেখে করা যাবে না। তাদের থেকে সদা সর্বদা দূরে থাকতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-


لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ


অর্থ: “আপনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন প্রথমতঃ ইহুদীদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)


এজন্য পবিত্র আশুরা শরীফ উনার এই দিনে রোযা রাখতে হলে এর সাথে ৯ বা ১১ তারিখ মিলিয়ে মোট ২টি রোযা রাখবে। শুধু ১০ তারিখে ১টি রোযা রাখা মাকরূহ বা অনুত্তম।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...