Sunday, May 2, 2021

নেক আমলের চেয়েও নেক ছোহবত বেশি জরুরী।

 নেক আমলের চেয়েও নেক ছোহবত বেশি জরুরী।


::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ.


অর্থ: ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদী উনাদের সঙ্গী হও।’ (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)


ছোহবত অত্যন্ত জরুরী বিষয়। মানুষ মানুষের জন্য। তবে সব মানুষ সবার জন্য নয়। কারণ কেউ যদি কোনো বদ লোকের সঙ্গে থাকে তাহলে সেই সঙ্গ তাকে দুঃশ্চরিত্র আর বদকার বানিয়ে ফেলবে। আর যদি কোনো নেককার-আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে তাহলে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় উক্ত ছোহবত তাকে নেককার বানিয়ে ফেলবে। এ কারণে কিতাবে উল্লেখ করা হয়-


اَلصَّحْبَةُ مُتَأَثِّرَة


অর্থ: ‘সংঙ্গ ক্রীয়া করে।’ 


আর ফার্সিতে একটি ক্বওল শরীফ রয়েছে-


صحبت صالح ترا صالح کند + صحبت طالح ترا طالح کند


উচ্চারণ: ছোহবতে ছলেহ ত্বরা ছলেহ কুনাদ; ছোহবতে তলেহ ত্বরা তলে’হ কুনাদ।


অর্থ: আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত মুবারক তোমাকে আল্লাহওয়ালা করে দিবে আর বদকারদের ছোহবত তোমাকে বদকার করে দিবে।


হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবত মুবারক দ্বারা সৎ স্বভাবের অধিকারী হওয়া যায়। আর ফাসিক-ফুজ্জারের সঙ্গে থাকলে ফাসিক্ব-ফুজ্জারে পরিণত হয়। নাঊযুবিল্লাহ!


নেক ছোহবত মুবারক প্রসঙ্গে কবি হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- ‘আমার এক বন্ধু হাম্মামখানায় আমাকে একটি সুঘ্রাণযুক্ত মাটির টুকরা দিলো, আমি সেই মাটির টুকরোকে জিজ্ঞাসা করলাম- তুমি কি মেশকে আম্বর, না আবেরী? কেননা তোমার সুঘ্রাণে আমি মাতওয়ারা হয়ে গিয়েছি। মাটি জবাব দেয়- আমি যে মাটি সেই মাটিই ছিলাম। কিন্তু আমি কিছু দিন গোলাপ ফুল গাছের সঙ্গে বা ছোহবতে ছিলাম, যখন গোলাপ ফুলের পাপড়ীগুলো আমার মধ্যে ঝরে পড়তো, আর তাই আমি মাটি উক্ত ফুলের ছোহ্বতে থাকার কারণে ফুলের ন্যায় সুঘ্রাণযুক্ত হয়ে যাই। নতুবা আমি মাটিই ছিলাম।’ সুবহানাল্লাহ। (গোলেস্তাঁ)


একটি মাটির টুকরো যদি গোলাপ ফুলের ছোহ্বতে থেকে ফুলের ন্যায় সুঘ্রাণ হয়ে যেতে পারে, তবে আল্লাহওয়ালা উনাদের মুবারক ছোহ্বতে থাকলে অবশ্যই আল্লাহওয়ালা হওয়া যাবে।  


মনে রাখতে হবে, এক মূহুর্ত ছোহবতে যা হাছিল হয়; হাজার হাজার বছর রিয়াজাত-মাশাক্কাত করেও তা হাছিল করা সম্ভব নয়।


বিশেষ করে, যদি কেউ ইছলাহ অর্জন করতে চায় তাহলে তাকে অব্যশই ইছলাহপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ইছলাহ দানকারী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হবে। তাহলেই উনাদের ছোহবত মুবারকে থাকার তা’ছীর সরূপ তার পক্ষে ইছলাহ অর্জন করা সহজ ও সম্ভব হবে। কারণ নেক আমলের চেয়েও নেক ছোহবত বেশি জরুরী ও অনেক দামী এবং মহামূল্যবান। মসনবী শরীফে হযরত মাওলানা রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন: 


یک ز مانہ صحبت با اولیاء + بہتر از صد سال طاعت بے ریا 


উচ্চারণ: এক যামানা ছোহবতে বা আউলিয়া বেহেতর আয ছদসালে তায়াতে বেরিয়া।


অর্থাৎ কিছুকাল কোন ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত এখতিয়ার করা বা বসা ১০০ বৎসর রিয়াহীন ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ!


কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-


‘গরতু খাহী হাম নশীনী বা খোদা, গো নশীনী দর হুজুরে আউলিয়া’ 


অর্থাৎ তুমি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে বসতে চাও, তাহলে হযরত আউলিয়ায়ে কিরামের দরবারে বসো।    


কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-


‘চশমে রওশন কুঞ্জে খাকে আউলিয়া, তাববিনী এবতেদা তা এন্তেহা’ 


অর্থাৎ হযরত আউলিয়ায়ে কিরামের পদধুলি দ্বারা তোমার চক্ষু উজ্জল কর, তাহলে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত দেখতে পাবে। সুবহানাল্লাহ!


কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-


‘আঁ নাকে খাকরা বনজর কিমিয়া কুনন্দ, আয়া বুয়াদ কেহ গোশায়ে চশম বমাকুনন্দ’ 


অর্থাৎ যারা দৃষ্টি দ্বারা মাটিকে স্বর্ণ করেন, কতইনা উত্তম হতো যদি উনারা আমাদের প্রতি নজর করতেন।


বলাবাহুল্য, ইলমে তাছাওউফের ক্ষেত্রে নেক ছোহবত অনেক দামী। হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার নূরূর রহমত তথা চেহারা মুবারকের দিকে তাকালেও গুনাহখতা মাফ হয়ে যায়। উনার কপাল মুবারকের দিকে তাকালে ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ পাওয়া যায়।  


এ কারণে প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, যামানার লক্ষস্থ্যল ব্যক্তিত্ব মুবারক, আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খাযিনাতুস সুন্নাহ, হাদিয়াতুস সুন্নাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, নূরে মুকাররম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক এখতিয়ার করে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও ইছলাহ হাছিল করার সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। 


ছোহবতের তরতীব: সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম তিনি সালিক ও মুরীদদের জন্য সহজতর তরতীব মুবারক ঘোষণা মুবারক করেছেন- ‘যেসমস্ত সালিক তথা মুরীদ দূর-দূরান্তে থাকেন তাদের জন্য কমপক্ষে প্রতি তিন মাসে একবার সম্মানিত ছোহবত মুবারকে এসে নুন্যতম ৭দিন অবস্থান করতে হবে। ঠিক অনুরূপভাবে, যে সমস্ত সালিকা বা মুরীদা রয়েছেন উনাদের জন্যও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান সম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হবে।’


সারকথা হলো- যারা দূরে থাকেন তাদেরকে কমপক্ষে প্রতি তিন মাসে একবার ছোহবতে এসে নুন্যতম ৭দিন অবস্থান করতে হবে। আর যারা কাছে থাকেন তারা প্রতিদিন, যারা ঢাকায় থাকেন তারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ছোহবত মুবারক এখতিয়ার করবেন। 


মহান মালিক তিনি আমাদেরকে নেক ছোহবত এখতিয়ার করে হাকীকতে পৌছার খাছ তাওফীক্ব নছীব করুন। আমীন!

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...