Friday, April 30, 2021

মিসওয়াক করা খাস সুন্নত।

 মিসওয়াক করা খাস সুন্নত।



السواك মিসওয়াক করা বা মিসওয়াকের পরিচয় এবং শরীয়াতে এর বিধান:

السواك শব্দটি ساك শব্দ থেকে গৃহীত। এর আভিধানিক অর্থ: ঘষা, মাজা, মর্দন করা ইত্যাদি।

পরিভাষায়: দাঁত থেকে হলুদ বর্ণ বা এ জাতীয় ময়লা দূর করার জন্য কাঠ বা গাছের ডাল ব্যবহার করাকে মিসওয়াক বলে। (নাইলুল আওতার (১/১০২)


দায়িমীভাবে বা সবসময় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব:

যেমন সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে:

عَن حضرت عَائِشَةَ، النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ

অর্থ: সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন যে, মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ ও মহান আল্লাহসত্মোষ লাভের উপায়। (ছহীহ নাসাঈ শরীফ (১/৫০), আহমাদ শরীফ (৬/৪৭, ৬২)

নিম্নোক্ত সময়গুলোতে মিসওয়াক করা উত্তম বলে তাকিদ দেয়া হয়েছে:

১। ওযূর সময়:

عَنْ حضرت أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ الْوضُوْءِ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যদি অমার উম্মতের জন্য কষ্ট মনে না করতাম তাহলে আমি ওযূর সময় তাদের মিসওয়াক করতে নির্দেশ দিতাম। [(আহমাদ; তা বর্ণিত হয়েছে, সহীহ আল-জামে’ (৫৩১৬)]

২। ছালাতের সময়:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন: যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্ট মনে না করতাম তাহলে আমি প্রত্যেক ছালাতের সময় তাদের মিসওয়াক করতে নির্দেশ দিতাম। [সহীহ বুখারী শরীফ (৬৮১৩), মুসলিম শরীফ (২৫২)]

৩। কুরআন শরীফ পাঠের সময়:

عَنْ حضرت عَلِىٍّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أُمِرْنَا بِالسِّوَاكِ وَقَالَ : إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ يُصَلِّى أَتَاهُ الْمَلَكُ فَقَامَ خَلْفَهُ يَسْتَمِعُ الْقُرْآنَ وَيَدْنُو ، فَلاَ يَزَالُ يَسْتَمِعُ وَيَدْنُو حَتَّى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ ، فَلاَ يَقْرَأُ آيَةً إِلاَّ كَانَتْ فِى جَوْفِ الْمَلَكِ.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের মিসওয়াক করার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে। কেননা যখন কোন বান্দা ছালাতে দাঁড়ায় তখন তার কাছে ফেরেশতা এসে তার পিছনে দাঁড়ায় ও পবিত্র কুরআন শরীফ পড়া শুনতে থাকে এবং তার নিকটবর্তী হতে থাকে, এমন কি ফেরেশতা তার মুখকে তেলাওয়াতকারীর মুখের সাথে লাগিয়ে দেয়। ফলে প্রত্যেক পবিত্র আয়াত শরীফ ফেরেশতার পেটের ভিতর প্রবেশ করে। [বাইহাক্বী (১/৩৮)]

৪। গৃহে প্রবেশের সময়:

عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ قُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ قَالَتْ بِالسِّوَاكِ.

অর্থ: আল মিকদাদ ইবন শুরাইহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কোন কাজ করতেন? তিনি বলেন, মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজা। [ছহীহ বুখারী শরীফ (২৪৬), মুসলিম শরীফ (২৫৫)]

৫। রাতের ছালাত আদায়ের সময়:

عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ لِيَتَهَجَّدَ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ 

অর্থ: হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তাহাজ্জুদ ছালাতের জন্য উঠতেন দাঁত মুবারকগুলোকে মিসওয়াক দ্বারা ঘষতেন। [(ছহীহ বুখারী (২৪৬), মুসলিম শরীফ (২৫৫)]

এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে, মিসওয়াক করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসামাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসওয়াক হিসেবে পিলু, যয়তুন ও খেজুর গাছের ডাল ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিক্ত জাতীয় গাছের ডাল ব্যবহার করেছেন, যেমন:- নিম, ভাইট ইত্যাদি।

মিসওয়াকের মাপ:

মিসওয়াক প্রত্যেক মিসওয়াককারীর কণিষ্ঠ অঙ্গুগুলির ন্যায় মোটা হওয়া ও তার হাতের আধ হাত বা এক বিঘৎ পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব।

মিসওয়াক ধরার সুন্নতী নিয়ম:

মিসওয়াক করার সময় মিসওয়াক এমন ভাবে ধরতে হবে যেন মিসওয়াককারীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুগুলি মিসওয়াকের নীচ দিকে প্রায় মাঝ বরাবর থাকে। আর কনিষ্ঠা অঙ্গুগুলি দ্বারা মিসওয়াকের নীচে পিছনের দিকে ধরবে। আর তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এ তিনটি অঙ্গুগুলি মিসওয়াকের উপরে রেখে মিসওয়াক করা সুন্নত এবং মিসওয়াক করার সময় মিসওয়াক মুখের লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা ও বসে বসে মিসওয়াক করা খাস সুন্নতের অর্ন্তভুক্ত।

মিসওয়াক করার ফজিলত:

মিসওয়াক উনার অনেক ফাযায়িল-ফযীলত রয়েছে। যেমন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মিসওয়াক মৃত্যু ব্যতীত সমস্ত রোগের আরোগ্য দানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ফেরদৌস)

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “মিসওয়াক করে নামায পড়া মিসওয়াক বিহীন নামাযের চেয়ে পঁচাত্তরগুণ বেশি ছওয়াব।” সুবহানাল্লাহ! (আবু নঈম)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তোমাদের জন্য মিসওয়াক ব্যবহার করা অপরিহার্য। কারণ এতে মুখের পবিত্রতা হাসিল হয় এবং মহান আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।” (বোখারী শরীফ)

মিসওয়াক করলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। এছাড়াও মিসওয়াক করার মধ্যে ৭২টি উপকারিতা রয়েছে। তদার মধ্যে ১টি হলো- মৃত্যুর সময় কালিমা শরীফ নছীব হয়। এবং মিসওয়াককারীর সাথে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মুছাফাহা করেন। সুবহানাল্লাহ!

যদি আমরা এই একটি মাত্র সুন্নত উনার অনুসরণ করতে পারি তাহলে আমরা একশত শহীদ উনাদের ছওয়াব লাভ করতে পারবো। সুবহানাল্লাহ! তাই আসুন, আমরা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করি।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...