Tuesday, March 2, 2021

বাকস্বাধীনতা নামক অস্ত্রটি কেবলমাত্র মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কাফিররা

 বাকস্বাধীনতা নামক অস্ত্রটি কেবলমাত্র মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কাফিররা



“বাকস্বাধীনতা” (Freedom of Speech) কথাটি এখন খুব আলোচিত কারণ কাফিররা আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নবীজী নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করা ব্যঙ্গচিত্রকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এই অস্ত্রটি ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলার অধিকার? আসুন আলোচনা করা যাক। 


আমরা যখন “স্বাধীনতা” কথাটি বলে থাকি তখন স্বাধীনতা মানে কিন্তু যা খুশি তাই করা বা বলা নয়। স্থান কাল পাত্র ভেদে স্বাধীনতার অর্থ আলাদা। কোন সমাজে বা দেশে থাকতে হলে সেখানকার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়, যা খুশি তাই করা বা বলা যায় না। তাহলে বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলার অধিকার কীভাবে হবে? ১৪০০ বছরের বেশী সময় ধরে যিনি কোটি কোটি মুসলমানদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় উনার বিরুদ্ধে কীভাবে যা খুশি তাই বলার অধিকার দাবী করে কাফিররা? 


সমস্ত দেশেই নিয়ম আছে যে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে তবে তা যেন কোনোভাবেই বর্ণবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মানহানি, মিথ্যা অপবাদ, জাতিগত ঘৃণা ছড়ানো ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে সমর্থন না করে। 

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


জার্মানি সহ ইউরোপের দেশগুলিতে ও আমেরিকা সহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই নিয়ম আছে যে কেউ হলোকস্ট (Holocaust) বিষয়ে কোনো আলোচনা বা প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইহুদিদের উপর চালানো হত্যাকান্ডে কে বলা হয় হলোকস্ট। কেউ যদি করে তাহলে তার জন্য আছে কঠিন শাস্তির বিধান। 

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


শুধু তাই নয়, গোটা বিশ্বে কোন নেতা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি ইহুদীদের বিরুদ্ধে কিছু বলে তাহলে সেটাকে এন্টি সেমিটিক আখ্যা দিয়ে ইহুদীরা তাদের মিডিয়া ও প্রভাব প্রতিপত্তিকে ব্যবহার করে তাকে বয়কট করে, একঘরে করে শেষ করে দেয়।  

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


ভারতীয় হিন্দুদের কাছে নৃশংস ডাকাত শিবাজী অত্যন্ত প্রিয় পাত্র, হিন্দুরা তাকে দেবতার মতো পূজা করে থাকে। ভারতীয়দের “কৌন বনেগা কড়োরপতি” অভিনেতা অমিতাভ তাদের শিবাজীকে সম্মান দিয়েই “ছত্রপতি শিবাজী” বলায় ক্ষেপে গেছিলো গোটা দেশের হিন্দু সম্প্রদায় যে কেন তাকে “মহারাজ ছত্রপতি শিবাজী” বলা হয়নি, যদিও সে মহারাজ ছিল না; একজন নৃশংস ডাকাত মাত্র; যারা বাঙালীদের কাছে “বর্গী” নামে পরিচিত। এর সাথে সাথে ভারতীয় হিন্দুরা ওই টিভি প্রোগ্রাম বয়কট করারও ডাক দেয়। যার ফলে ক্ষমা চাইতে হয় অমিতাভকে। 

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করা যাক। শিবাজীর মতোই ভারতীয় হিন্দুদের কাছে উগ্র মুসলিম বিদ্বেষী, শিব সেনার প্রতিষ্ঠাতা ও বাবরি মসজিদ শহীদ করার অন্যতম মূল অপরাধী বাল ঠাকরে প্রিয় পাত্র, হিন্দুরা তাকে দেবতার মতো পূজা করে থাকে ও তাকে “হিন্দু হৃদয়সম্রাট” বলে ডাকে। এর ছেলে উদ্ধব ঠাকরের একটি ব্যঙ্গচিত্র সোশ্যাল মেসেজিং অ্যাপে ছড়িয়ে গেলে একটি পত্রিকার সম্পাদকের নামে মামলা হয়। 


পত্রিকার সম্পাদক বাক স্বাধীনতার কথা বলে মামলা লড়লে বম্বে হাই কোর্টের বিচারকরা বলে যে- নাগরিকদের বাক স্বাধীনতা অবাধ বা সীমাহীন হতে পারে না! সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় পত্রিকার সম্পাদক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের রায় সমর্থন করে বলেছিল, ভাবনাচিন্তা প্রকাশেরও সীমা রয়েছে।

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


এইখানে ভারতীয় হিন্দুদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও হিপোক্রেসী লক্ষণীয় কারণ তারা আবার বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ফ্রান্সের পাশে দাঁড়িয়েছে। 


এইবার আসা যাক নেটদুনিয়া অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন জগতের কথায়। ফেসবুক, টুইটার সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও আপনি যা খুশি তাই লিখতে পারবেন না বা পোস্ট করতে পারবেন না। তাদের একটা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ও গাইডলাইন আছে। আপনার পোস্ট যদি সেটা ফলো না করে তাহলে তারা সেটা ডিলিট করে দেবে অথবা আপনার আইডি ব্লক বা ডিলিট করে দেবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আপনি কেউ হলোকস্ট (Holocaust) বিষয়ে কোনো আলোচনা বা প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন না। এর জন্য তাদের রয়েছে কঠিন নিয়ম। আমরা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও দেখেছি যে ইহুদী ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই সেই আইডি ব্লক বা ডিলিট করে দেওয়া হয় এবং পেইজ আনপাবলিশ করে দেওয়া হয়। 

তাহলে কোথায় গেলো সেই কথাকথিত যা খুশি তাই বলার বাকস্বাধীনতা? 


সুতরাং দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট যে বাকস্বাধীনতা নামক অলীক বস্তুটি কাফিররা কেবলমাত্র মুসলিমদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে চায়।


Writer: Miraj Gazi Vaijan

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...