পর্দার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য সম্পর্কে একটি ওয়াকিয়া মুবারক
পর্দা করা ফরয। কিন্তু বর্তমানে তথাকথিত মুসলমানরা পর্দা করার ব্যপারে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না। বিশেষ করে যারা পর্দা করতে মানুষকে উৎসাহ দিবে, যারা আলিম তারাই পর্দা করছে না। নাউযুবিল্লাহ!
নিম্নে পর্দা সম্পর্কে একটি ওয়াকিয়া মুবারক উল্লেখ করা হলো। যার মধ্যে সবার জন্য ইবরত নছীহত রয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يـَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِاِمْرَأَةٍ اِلَّاكَانَ ثَالِثُهُمَا الشَّيْطَانُ.
অর্থ: “হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (মহান আল্লাহ পাক উনার কসম) কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একাকী হলেই শয়তান এসে তাদের তৃতীয় ব্যক্তি হয় তথা তাদের উভয়কেই গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে।” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, একবার খলীফায়ে ছানী, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত মেয়ে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হয়রত হাফসা আলাইহাস সালাম) উনার সাথে একত্রে একটি কামড়ায় বসে কিছু বিষয় আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় খলীফায়ে ছানী, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হয়রত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ স্মরণ হলো। সাথে সাথে তিনি দ্রুত দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দ্রুত সেই কামড়া থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন। বের হওয়ার সময় দরজার চৌকাঠের সাথে উনার মাথা মুবারক লেগে উনার কপাল মুবারক ফেটে যায় ও দরদর করে রক্ত মুবারক ঝরতে থাকে। রক্ত মুবারক ঝরা অবস্থায়ই তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেন। উনার কপাল মুবারক থেকে রক্ত ঝরতে দেখে স¦য়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! কে আপনার কপাল মুবারক ফাটিয়ে দিয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বেয়াদবী ক্ষমা চাই, আরবের বুকে এমন কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি যে, আমার কপাল মুবারকে আঘাত করতে পারে। তবে আপনার একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ আমার কপাল মুবারকে আঘাত করে আমার কপাল মুবারক ফাটিয়ে দিয়েছন। আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনঃজিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আপনার মাথা মুবারকে আঘাত করলেন? উত্তরে তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আমার সম্মানিত কন্যা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হয়রত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হয়রত হাফসা আলাইহাস সালাম) তিনিসহ আমরা দু’জন একটি কক্ষে একত্রিত হয়ে কিছু জরুরী বিষয় আলাপ-আলোচনা করতেছিলাম। এমন সময় আমার স্মরণ হলো, “কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে একাকী একত্রিত হলে সেখানে তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়তান।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আমার স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আমি দ্রুত উঠে বের হওয়ার সময় আমার কপাল মুবারক চৌকাঠে লেগে কপাল মুবারক ফেটে যায় ও রক্ত মুবারক ঝরতে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
এ মুবারক ঘটনা থেকে ফিকির ও চিন্তার বিষয় হচ্ছে- খলীফায়ে ছানী, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হয়রত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত মেয়ে যিনি “উম্মুল মু’মিনীন” হিসেবে উনারও সম্মানিত মাতা। সে হিসেবে উনারা একজন আরেকজনের পিতা ও মাতা। সুতরাং পরস্পর পরস্পরের দিকে দয়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকাতে অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুয়ায়ী প্রতি দৃষ্টিতে এক একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তারপরেও বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ বা পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার আমল করতে গিয়ে তিনি কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন এবং পবিত্র পর্দা পালন করার প্রতিও খলীফায়ে ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন তা ফিকির করতে হবে।
Rajarbag Shareef Official
#rajarbagofficial

No comments:
Post a Comment