Saturday, September 26, 2020

সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ২

 সম্মানিত মুজাদ্দিদগণ প্রসঙ্গে- ২



প্রথম শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি । উনি ছিলেন তাবেয়ী অর্থাৎ তিনি সরাসরি হযরত সাহাবা আজমাইনগণের সোহবত পেয়েছিলেন। হযরত সাহাবা আজমাইনগণের ক্ষেত্রে হাদিস শরীফ এসেছে “উনারা আকাশের তারকা সদৃশ। এবং উনাদের যে কোন একজনকে অনুসরণ করলেই উনারা জান্নাত পর্যন্ত পৌছে দেবেন”। অর্থাৎ উনারা প্রত্যকেই একেকজন একেকটি মাযহাব। উনাদের সময় কোন মাযহাব সৃস্টি হয়নি এবং উনাদের তা অনুসরণেরও প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ইলম ও আকলের ঘাটতি হওয়ায় মাযহাব সৃস্টির প্রয়োজন দেখা দেয়। ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলে হয় ফিকাহ শাস্ত্রের জনক। অর্থাৎ তিনি প্রথম মুজাদ্দিদ হিসেবে এই ফিকাহ শাস্ত্রের প্রচলন ঘটিয়ে মানুষকে সম্মানিত শরীয়ত মানার পথ সহজ করে দেন । কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সকল মুজাদ্দিদগণের মাঝে দেখা যায় এবং উনার মাঝেও ছিল। 

১। সকল মুজাদ্দিদগণ ফিকাহ এবং তাসাউফ সমানভাবে অর্জন করেছেন। তিনি উনার সম্মানিত শায়খ বা মুর্শিদ প্রসঙ্গে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি বছর না আসতো, তবে আমি নু’মান ধ্বংস হয়ে যেতাম।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয় (প্রথমে হযরত ইমাম বাকের আলাহিস সালাম, পরে হযরত ইমাম জাফর সাদিক আলাইহিস সালাম )-উনাদের নিকট বাইয়াত না হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে যেতেন।

২। তিনি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক ছিলেন এবং গবেষণায়রত সকল ছাত্রদের ভরণ পোষণ তিনি নিজে করতেন। কোন প্রকার সরকারি সাহায্য বা অনুদান নিতেন না । মাহফিল করে টাকা নেয়ার প্রবনতা উনার ছিলনা। অন্য মুজাদ্দিদগণও অনুরূপ ছিলেন। 

৩। রাজা-বাদশা অর্থাৎ শাসক শ্রেণীকে এড়িয়ে চলতেন। যেমন আব্বাসীয় বংশের তথাকথিত খলীফা আল-মনসুর হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাজ্যের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দিলে তিনি স্বাধীনভাবে থাকার জন্য প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তার পরিবর্তে উনার ছাত্র হযরত আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখানের ব্যাপারে আল মনসুরকে ব্যাখা দেয়া হয় এভাবে যে তিনি নিজেকে এই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না। আল-মনসুরের এই পদ প্রস্তাব দেওয়ার পেছেনে তার নিজস্ব কারণ ছিল, হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রস্তাব প্রত্যাখান করার পর মনসুর উনাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করে। এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি যদি মিথ্যাবাদী হই তাহলে প্রস্তাব প্রত্যাখান করার ব্যাপারে আমার মতামত সঠিক, কারণ কিভাবে আপনি প্রধান বিচারপতির পদে একজন মিথ্যাবাদিকে বসাবেন।” এই ব্যাখার উত্তরে আল-মনসুর ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে গ্রেফতার করে ও নির্যাতন করে কারাগারে বন্দি করে রাখে। এমনকি বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিতো কে উনার সাথে দেখা করতে পারবে। পরবর্তীতে কারাগারেই তিনি ইন্তিকাল করেন। তাহলে দেখা গেল সম্মানিত মুজাদ্দিদ হযরত ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি কখনোই শাসকদের সাথে কমপ্রোমাইজ করেন নি। (চলবে)


Writer_ Abm Ruhul Hassan

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...