দোয়া-মুনাজাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।
====================================
পবিত্র দোয়া শব্দটি আরবি। একজন বান্দার ইহকাল এবং পরকালের জিন্দেগীতে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যেইসব নেক চাহিদা রয়েছে সেই সমস্ত নেক চাহিদাগুলি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিনীতভাবে চাওয়াকেই দোয়া বলে।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা আমার (মহান আল্লাহপাক) কাছে দোয়া কর। আমি (মহান আল্লাহ পাক) তোমাদের দোয়া কবুল করব।” (পবিত্র সূরা মু’মিনীন: আয়াত শরীফ ৬০)
নূরে মুজাসসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্যে থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে দোয়ার করার তাওফীক দান করেছেন। তার জন্য মহান আল্লাহ পাক স্বীয় রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে অধিক পছন্দনীয় দোয়া হলো, দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তার দোয়া। (তিরমিজি শরীফ)
হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, দোয়া আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত থাকে যেই পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পবিত্র দুরূদ শরীফ আদায় করা না হয় সেই পর্যন্ত দোয়া আসমানে পৌঁছায় না। (মিশকাত শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আহলে বাইত শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত, সম্মানিত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মইউস সুন্নাহ তিনি বর্তমান উম্মাহকে শিক্ষা দিয়েছেন দোয়ার শুরুতে, মধ্যে এবং শেষে পবিত্র দুরূদ শরীফ পড়ার সুমহান সুন্নত মুবারক।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুমহান সুন্নত মুবারক হচ্ছেন দুআর বাক্য একাধিকবার করে উচ্চারণ মুবারক করা। মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আহলে বাইত শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত, সম্মানিত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মুইহউস সুন্নাহ তিনি উনার মুকবুল মুনাজাত শরীফ উনার মধ্যে দিয়ে বর্তমান উম্মাহকে শিক্ষা দিয়েছেন দোয়া একাধিকবার করে বলা সুন্নত মুবারক।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি নেক বান্দার মর্যাদা জান্নাতে বুলন্দ করবেন, তখন সে বলবে, হে মহান আল্লাহ পাক আমার জন্য এই মর্যাদা কিভাবে হল? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়ার কারনে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। (আহমদ শরীফ)
আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘দোয়া ব্যতীত কোনো জিনিস তাকদিরের ফয়সালাকে পরিবর্তন করতে পারে না এবং নেক আমল ব্যতীত কোনো জিনিস হায়াত বাড়াতে পারে না।’
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যেই ব্যক্তি চায়,বিপদ-মুসীবতের সময় মহান আল্লাহ পাক তার দোয়া কবুল করুন সে যেন সুখের সময় মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বেশি দোয়া করে। (তিরমিজী শরীফ)
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: তোমাদের প্রত্যেকেই যেন মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে নিজ প্রয়োজন পূরণের জন্য দোয়া করে। এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করবে। (তিরমিযি শরীফ)
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করে না, মহান আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তির উপর অসন্তষ্ট হন। (তিরমিযি শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকেই সদা-সবর্দা উনার নিকট দোয়ারত অবস্থায় থাকার তওফীক দান করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment