প্রতিবাদ তো করতেই হবে। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, "তোমাদের সামনে কোন অন্যায় কাজ হতে দেখলে এবং হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার সামর্থ্য থাকলে হাত দিয়ে প্রতিহত করবে। হাত দিয়ে প্রতিহত করার সামর্থ্য না থাকলে মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করবে। যদি সেই সামর্থ্যও না থাকে তবে অন্তর দিয়ে প্রতিহত করবে। অর্থাৎ অন্তর থেকে ঘৃণা করতে হবে। তবে অন্তর থেকে ঘৃণা হলো ঈমানের দুর্বলতর স্তর।"
(বুখারী ৯৫৬, মুসলিম ৪৯, তিরমিযী ২১৭২, নাসায়ী ৫০০৮-৯, আবূ দাঊদ ১১৪০, ৪৩৪০; আহমাদ ১০৬৮৯, ১০৭৬৬, ১১০৬৮, ১১১০০, ১১১২২, ১১৪৬৬; ইবনু মাজাহ ৪০১৩)
তবে আসুন একবার জেনে নেয়া যাক। কুরবানির জায়গা নিষিদ্ধ করা যায় কি না? পবিত্র হাদীছ শরীফ আমাদের কি শিক্ষা দেয়।
একবার একজন মহিলা সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে এসে আরজ করলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি একটি নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি করার মানত করেছি। কিন্তু জাহেলি যুগে সেখানে কুরবানি করা হতো।
এ কথা শুনে দয়ার নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহিলা সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার এই কুরবানি কি কোন মূর্তির জন্য?
মহিলা সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, না। আমার কুরবানি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার মানত পূর্ণ করুন। (সুনানে আবু দাঊদ ৩৩১২)
সুতরাং এ থেকে স্পষ্ট যে, কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট স্থান তো নিষিদ্ধ করা যাবে না। ইহা কুফরি। বরং কুরবানির হাঁট, জায়গা বর্ধিত করতে হবে।
তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হচ্ছে যে, মোহাম্মাদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে কুরবানির নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে এবং মুসলমানদের জন্য কুরবানির হাঁট বর্ধিত করতে হবে। কুরবানির জায়গা বর্ধিত করে দিতে হবে। দেশের গোটা জমিন কুরবানি এবং কুরবানির হাঁটের জন্য উৎসর্গ করে দিতে হবে।

No comments:
Post a Comment