মূর্খ জাহিল এক মৌলবী মালানা জিয়াউল হাসান ফতোয়া দিয়েছে, উম্মুল মু’মীনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি পুতুল নিয়ে খেলেছেন। নাউযুবিল্লাহ।
মূর্খটার বক্তব্যের জবাবঃ “আছ ছহীহুল বুখারী কিতাবুল আদব বাবুল ইনবিসাত ইলান নাস ২য় খ- ৯০৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت كنت العب بالبنات عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان لى صواحب يلعبن معى وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل ينقمعن منه فيسربهن الى فيلعبن معى.
অর্থ: “হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘরে পুতুল নিয়ে খেলতাম। আমার সাথীরাও আমার সাথে খেলত। যখনই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসতেন, তখনই তারা পর্দার আড়ালে লুকাতো। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আমার কাছে পাঠাতেন, তাই আবারো তারা আমার সাথে খেলত।”
মূর্তি, ছবি বা ভাস্কর্যকে জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে উক্ত হাদীছ শরীফকে দলীল হিসেবে উল্লেখ করা জিহালত বৈ কিছুই নয়। কারণ উক্ত হাদীছ শরীফখানা মানসূখ হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত। যেমন উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ‘শরহুল কিরমানী আলাল বুখারীতে উল্লেখ আছে-
واستدل بالحديث على جواز اتخاذ المعتبة من اجل لعب البنات بهن ... انه منسوخ بحديث الصور.
অর্থ: “শিশুদের জন্য খেলনা পতুল বা মূর্তি ব্যবহার করাকে বৈধ প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ উক্ত হাদীছ শরীফকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। ... অথচ উক্ত হাদীছ শরীফখানা ছবি ও মূর্তি সম্পর্কিত অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা মানসূখ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এর হুকুম এখন আর বলবৎ নেই।” (হাশিয়াতুল বুখারী ২য় খ- ৯০৫ পৃষ্ঠা ৬নং হাশিয়াহ)
অতএব, প্রমাণিত হলো যে, পুতুল নিয়ে খেলা সম্পর্কিত হাদীছ শরীফখানা সকলের মতেই মানসূখ। কেননা অসংখ্য হাদীছ শরীফে মূর্তি পুতুল ইত্যাদি তৈরি করতে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছে এবং তৈরি করাকে কঠিন গুণাহের কারণ বলা হয়েছে। তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে পতুল তৈরি করা এবং খেলাও নাজায়িয ও হারাম। আর খেলনা পুতুলও যদি কারো ঘরে প্রকাশ্যে থাকে তবে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করবে না ও নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।
মূর্খ মৌলবী নিশ্চয়ই নাসেখ মানসুখ সর্ম্পকে জানে না। তার জানার কথাও না। আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিতে গেলে এমনতো হবেই।
অসংখ্য উদাহরন আছে, যেমন- বুখারী শরীফ মুসলিম শরীফের হাদীস শরীফে আছে, ইসলামের প্রথমিক সময়ে নামাজে কথা বলার বিধান ছিলো। সালাম দিলে জবাব দেয়ার বিধান ছিলো, কিন্তু পরবর্তীতে নামাজের কথা বলার হুকুম মানসূখ হয়ে গেছে। প্রথম দিকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করা হয়েছিলো, পরে সেটা মানসূখ হয়ে কবর যিয়ারত করার হুকুম জারী হলো। তদ্রুপ মদ হারাম হওয়ার বিষয়ও ধাপে ধাপে এসেছে।
এখন সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে, পুতুলের হাদীছ যে মানসূখ হয়ে গেছে তার প্রমাণ স্বয়ং উম্মুল মু’মিনিন হযরত আশেশা সিদ্দীকা আলােইহাস সালাম। উনি নিজেই বর্ণনা করেন-
اخبرنا عبد الرزاق قال: اخبرنا معمر عن الزهرى قال: اخبرنى القاسم بن محمد ان عائشة اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عليها وهى مستترة بقرام فيه صورة تماثيل فتلون وجهه ثم اهوى الى القرام فهتكه بيده ثم قال: ان من اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله
নিশ্চয়ই হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেছেন যে, একদা সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর (অর্থাৎ হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর) ঘরে প্রবেশ করলেন, ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন ঘরের ভিতর প্রাণীর ছবিযুক্ত একটি পর্দা টানানো হয়েছে। ইহা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক রঙিন হয়ে গেল এবং তিনি পর্দাটির কাছে গিয়ে পর্দাটি নিজ হাত মুবারক দ্বারা ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর তিনি বললেন: ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে যারা আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছবি তৈরি করে।” (মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক- কিতাবুল জামি’ বাবুত তামাছীলি ওয়া মা জায়া ফীহি ১০ম খ- ৩৯৮ পৃষ্ঠা)
এই হাদীস শরীফ থেকে আমারা দেখতে পেলাম স্বয়ং সিদ্দীকা আলাইহিস সালাম উনার হাদীস শরীফ দ্বারাই প্রানীর ছবির প্রতিকৃতি হারাম হওয়া সাবস্ত্য হলো। যদি পুতুল সংশ্লিষ্ট হাদীস শরীফ মানসুখ না হতো তাবে কি এই হাদীস শরীফে প্রানীর ছবি যুক্ত পর্দা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের আযাবের কথা শুনাতেন? কি জবাব দেবে মৌলবী মাওলানা জিয়াউল হাসান নামক আদার ব্যাপারী?
কি আর ফতোয়া দিবে সে জেনে শূনেই টাকার কাছে বিক্রি হয়ে এসব করছে। লা’নত তার উপর।

No comments:
Post a Comment