খোলা চিঠি:
আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সর্বশ্রেষ্ঠ এ মুবারক দিনটি সর্বোত্তমভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা করা প্রসঙ্গে
বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান
মুহতারাম,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
বাংলাদেশ সরকারের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যাদের কথা অনিবার্যভাবে আসে তারা হলেন, ত্রিশ লাখ শহীদ।
প্রসঙ্গত, এ ‘শহীদ’ শব্দটি সর্বোতভাবেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কীয় বিশ্বাস, অনুভূতি ও আবেগ থেকে উৎসারিত। অর্থাৎ এদেশের উৎপত্তির সাথে পরিপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে সম্মানিত ইসলামী বিশ্বাস ও অনুষঙ্গ। এদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট সম্মানিত ইসলামী অনুভূতি ও চেতনা।
যে ’৭০-এর নির্বাচনে এদেশের প্রায় ৯৯ ভাগ জনগণ বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছিলো- সে নির্বাচনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো, “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না।” অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবেই ‘পবিত্র দ্বীন ইসলাম’ এদেশের জন্য এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়।
আর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে বৎসরের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ ফযীলতযুক্ত এবং মহা গুরুত্ববহ ও দ্বীনি ভাবমর্যাদার দিন হচ্ছে- পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ।
মুহতারাম,
দিবস পালনের ঐতিহ্য ও রীতি বাংলাদেশ সরকারে বিশেষভাবে রয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসসহ অনেক দিবসই রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক পালন করা হয়। সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়।
সঙ্গতকারণেই এতসব দিবস পালনের অভিজ্ঞতার আলোকে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ ফযীলতযুক্ত দিন- পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, প্রাধান্য, ভাবযর্মাদা সহকারে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সাথে পালনের দাবি রাখে।
মুহতারাম,
এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। এদেশের রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র ‘দ্বীন ইসলাম’। আর মুসলমান বা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মূলকথা হলো- “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”
বলাবাহুল্য, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ আদৌ উচ্চারিত হতো না, যদি- ‘মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উচ্চারণ না হতো। অর্থাৎ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মূল হচ্ছেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
আর উনার প্রতি সব আবেগ, মুহব্বত, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আদব জানানোর মূল মাধ্যম হচ্ছে যমীনে উনার তাশরীফ গ্রহণের দিন- পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ যথাযথভাবে পালন।
মুহতারাম,
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার শান ও মান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই তিনি এ দিনে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করেছেন। বঙ্গভবনে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করার ব্যবস্থা করেছেন এবং এ দ্বীনি বিশ্বাস ও চেতনা থেকেই স্বাধীনতা উত্তরকাল হতেই বাংলাদেশ সরকারের সব স্কুল-কলেজে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ পালন করা হয়।
মুহতারাম,
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় তথা ইসলামিক ফাউন্ডেশনও এ মহান দিবস উপলক্ষে যা করে থাকে তা সত্যিকার দায়িত্বের তুলনায় নামকাওয়াস্তে মাত্র। কারণ যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করা না হলে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনিসহ কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি করা হতো না এবং উনাদের বিশেষ কোনো ঘটনাও সংঘটিত হতো না।
মুহতারাম,
সেক্ষেত্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আপনাদের সরকারের আশু কর্তব্য, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ দিবসটি চরম-পরম, মুহব্বত, শান-শওকত এবং জওক-শওকের তথা বিপুল খরচ করে মহা আড়ম্বরের সাথে পালন করা। সাথে সাথে গোটা দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করা।
মুহতারাম,
একথা ওপেন সিক্রেট যে, এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানরা যে যে দলই করুক না কেন, অথবা তাদের উপর যতই রাষ্ট্রীয় তত্ত্ব চাপানো হোক না কেন, অথবা যে কোনো আইনই প্রয়োগ করা হোক না কেন; একদিকে ওইসব কিছু যেমন এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ; অপরদিকে এ ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানদেরকে নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা সম্মানিত ইসলামী অনুভূতি ও বিশ্বাস।
প্রচলিত প্রশাসন যেখানে ব্যর্থ সেখানে সম্মানিত ইসলামী অনুভূতি ও বিশ্বাসই কার্যকর- এ কথাই প্রমাণিত হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিভাত হয়েছে, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে সত্যিকার শান্তি আনতে হলে সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ও পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই।
মুহতারাম,
সেক্ষেত্রে সরকারের আশু কর্তব্য- আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সাইয়্যিদুল সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বাধিক আয়োজন করা।
: নিবেদক :
আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম
সম্পাদক- দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত
সভাপতি- আন্তর্জাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন কমিটি
রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

No comments:
Post a Comment