Monday, October 19, 2020

রাজারবাগ দরবার শরীফ গেলে বিভিন্ন ইসলামিক কর্মকাণ্ডের জন্য খালি টাকা চাওয়া হয়।

 রাজারবাগ দরবার শরীফ গেলে বিভিন্ন ইসলামিক কর্মকাণ্ডের জন্য খালি টাকা চাওয়া হয়।


আমরাও তো ইসলামের কাজ করি, আমরা কি এত টাকা চাই ?


আপনারা টাকার বিনিময়ে ওয়াজ মাহফিল করেন, এটাই আপনাদের ইসলামী কাজ। 


-কিন্তু আপনার কি সহস্রাধিক মসজিদের কাজ চলমান রয়েছে ?

-আপনি কি বছরে ৩৬৫ দিন সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ উপলক্ষে মাহফিল করেন ?

-আপনি ৩৬৫ দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান সম্মনার্থে বিশেষ ও শাহী তাবারুকের ব্যবস্থা করেন ?

-আপনি কি প্রতি মাসের ১২ তারিখ সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ উনার বিষয়টি মানুষকে জানাতে পুরো রাজধানীতে বিশেষ তাবারুক বণ্টন করেন ?

-আপনি কি কোটি কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি ক্রয় করে ৬৪ জেলায় সুন্নতি পণ্য প্রচার করেন ?

-সুন্নতি পণ্য ও তার ব্যবহার জানতে দৈনিক লক্ষ লক্ষ কিতাব কিনতে হয়, আপনি কি সেটা করেন ?

-সেই কিতাবগুলো পড়তে অসংখ্য গবেষক রাখতে হয়, আপনি কি সেটা করেন ?

-আপনি কি দেড় শতাধিক আইয়ামুল্লাহ শরীফ উনার কথা কখন জানতেন ? সেগুলো বের কথা, অতঃপর সেগুলো উপলক্ষে কিতাব বের করতে কত গবেষণার প্রয়োজন, সেই গবেষণা করতে কত খরচের প্রয়োজন একবার চিন্তা করেছেন ?

-যখন বিভিন্ন স্থানে ইসলাম অবমাননা হয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন পর্দা নিষিদ্ধ করে, যখন কুরবানী নিষিদ্ধ হয়, যখন মসজিদ ভাঙ্গা হয়, তখন কি আপনি তাদের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করেন ?

-আপনি কি ১টি দৈনিক পত্রিকা চালান ?

-আপনি কি ১টি মাসিক পত্রিকা চালান ?

-আপনি কি বছরে শত শত গবেষণামূলক কিতাব বের করেন ?

-আপনি কি কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে মহিলাদের জন্য ১০০% পর্দার সহিত হাসপাতাল চালু রেখেছেন ?

-আপনি কি পাঠ্য বইয়ের কুফরী পরিবর্তন করতে নতুন সিলেবাস ও কিতাব লিখিত করার কোন উদ্যোগ নিয়েছেন ?


উপরের কোন কাজই আপনি করেননি। 

সমস্যা হলো, আমাদের দেশের একটা শ্রেণী টাকার বিনিময়ে শুধু ওযাজ মাহফিলকে ইসলামী কাজ মনে করে। ভাবেন, প্রচার করেন, শুধু লোক জমায়েত করে ওয়াজ করলেই ইসলামের কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু শুধু ওয়াজ মাহফিল দিয়ে ইসলামের স্থায়ী কাজ হয় না, দ্বীন ইসলামের ব্যপ্তি আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত। সমস্যা হলো- তারা সেটা জানেও না এবং জানতেও চায় না।


রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে বিভিন্ন ইসলামী কাজের আঞ্জাম দেয়া হয়। 

আর দ্বীন ইসলাম নিশ্চয় রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার একার জিনিস না, 

সবার জিনিস। 

তাই সবার উচিত- সেখানে আর্থিকভাবে শরীক থাকা। 

নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকতে তাগিদ দেয়া স্বয়ং আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই সুন্নত। এবং সেটা পালন করা সাহাবীগণের সুন্নত।

প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সকল নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকা।


আমাদের বরং শুকরিয়া করা উচিত, রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার পক্ষ থেকে এত নেক কাজ করা হচ্ছে এবং আমাদেরকে সেখানে আর্থিকভাবে শরীক থাকার জন্য সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

আজকাল মানুষ কত বিষয়ে খরচ করে, কত বদ আমলে কোটি কোটি টাকা অপচয় করছে,

সেখানে নেক কাজে শরীক থাকতে বলা, অবশ্যই ভালো কাজ এবং সেটাই করা উচিত।


অপরদিকে যারা নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে তারা আসলে নেক কাজ বিরোধী। তারা চায় দ্বীন ইসলামের পক্ষে কাজ থেমে যাক, কুফরীর প্রচার হোক। নাউযুবিল্লাহ।

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আছে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সব সময় নেক কাজে আর্থিকভাবে শরীক থাকতে সাহাবীগণকে তাগিদ দিতেন বলে, কাফিরেরা সেটা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতো এবং মুসলমানদের ভুল বুঝিয়ে দূরে রাখতে চাইতো। 

অথচ সেই সময় নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিন্তু নেক কাজে শরীক থাকতে তাগিদ দেয়া বন্ধ করেননি, বরং বায়াত করানোর সময় শর্ত দিয়েছেন,

স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল উভয় অবস্থায় সামর্থ অনুসারে আর্থিকভাবে শরীক থাকতে হবে।এবং কোন অবস্থায় নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করা যাবে না।


সত্যিই বলতে, ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম তিনি যে সমস্ত নেক কাজ শুরু করেছেন, মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে সরাসরি সংযোগ আছে বলেই তিনি এসব কাজ করতে পারেন। এসব কাজের পেছনে যে উদ্যোগ বা খরচ হয়, কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে তা চিন্তা করাও সম্ভব নয়। অনেকে তো হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, তারা কি এসব কাজের উদ্যোগ নিতে পেরেছে ? পারেনি। তারমানে বোঝা যাচ্ছে, শুধু টাকা থাকলেই এসব নেক কাজের আঞ্জাম দেয়ার সম্ভব না।


মূলতঃ ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম তিনি খালেছ আল্লাহ পাক উনার ওলী বলেই তা সম্ভব। মানুষের পকেটের কিছু টাকা বা চিন্তাধারা দিয়ে সেই আঞ্জাম দেয়া কখনই সম্ভব নয়।


মহান আল্লাহ পাক আমাদের কাফির ও মুনাফিকের কুফরী ও ধোঁকাপূর্ণ কথা থেকে হিফাজত করুন। আমিন।

-

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...