Monday, October 19, 2020

নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ (পর্ব-৫)

 নিশ্চিত পরাধীনতার পথে ধাবমান বাংলাদেশ (পর্ব-৫)



গাজী সুলতান মাহমুদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহির শায়েখ আবুল হাসান খারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছিলেন, 


“যে যুগের মুসলমানেরা হিন্দু ও ইহুদীদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহন করবে, সেই যুগটি হবে মুসলমানদের পতনের যুগ। সেই যুগেই মহান আল্লাহ পাকের এই যমীন মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত হবে।” (ভারত অভিযান, ৫ম খন্ড, পৃষ্টা ৫০)। 


বিষয়টি মুসলমানদের জন্য নতুন কোন উপদেশ নয়, সাড়ে চৌদ্দশো বছর পূর্বে কোরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফে বিষয়টি বার বার এসেছে এবং এই পবিত্র বাণী কখনোই ভুল হতে পারেনা।


অথচ এই সত্য জানার পরও বাংলাদেশের অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য হিন্দুদেরকে আর মধ্যপ্রাচ্যের সৌদী রাজপরিবার ক্ষমতায় থাকার জন্য ইহুদীদেরকে বানিয়েছে বন্ধু প্রতিম। 


পৃথিবী জুড়ে মুসলমান হিসাবে আমরা এক ভয়ানক ক্রান্তিকাল পার করছি। কাফিরদেরকে শুধু বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করাই নয়, ক্ষেত্র বিশেষে তাদেরকে সৃষ্টিকর্তার চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে (নাউজুবিল্লাহ)।


যেমন বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতিটা সদস্য মনে করে সকল ক্ষমতার উৎস হাসিনা, আর হাসিনা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে সকল ক্ষমতার উৎস হলো চরম মুসলিম বিদ্বেষী “নরেন্দ্র মোদী” (নাউজুবিল্লাহ)।


কাশ্মীরে যখন মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করে মোদী লক্ষ, লক্ষ মুসলমানদের উপর নির্মম অত্যাচার শুরু করেছে তখন বাংলাদেশের এক ক্রীতদাস মন্ত্রী বলে - কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হলে আমরা ভারতের পক্ষে থাকবো।


 ওই জানোয়ারকে যদি মোদী আদেশ দিয়ে বলতো যে তুই বল- “ভারত - বাংলাদেশ যুদ্ধ হলে আমরা ভারতের পক্ষে থাকবো”, তাহলে সে নির্দ্বিধায় সেটাই বলতো ক্ষমতায় থাকার জন্য। 


এরা এখন আর কেউ বাংলাদেশী নয় সকলেই এখন রূপান্তরিত হয়েছে ভাদাগোষ্ঠীতে। 


প্রশ্ন হচ্ছে - হোয়াট ইজ “ভাদা”? 


- যারা লজ্জা শরম ব্যতিরেকে ভারতের পক্ষে অন্ধ দালালি করে তারাই হচ্ছে নির্লজ্জ “ভারতীয় দালাল” সংক্ষেপে “ভাদা”। 


বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার্তে এখন আর আন্দোলনের জন্য আহব্বান করে কোন লাভ নেই। আহব্বানের সময় অনেক আগেই শেষ, এখন ফিল্ডে কাজ করতে হবে। 


আর সেটা করতে না পারলে বাংলাদেশের পরিণতি হবে ধীরে ধীরে ভারতীয় অজগরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া।


 একটি বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়া উচিত ছিল - হঠাৎ করেই দেখা যায় কোন এক সেনানিবাসের যে কোন পদবীর এক সেনা কর্মকর্তা অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় সাদা মাক্রোবাসের ৭/৮ জন লোক গাড়ী থামিয়ে, কিছু বোঝার আগেই মাক্রোতে তুলে নিয়ে হাওয়া! ১৫/১৬ দিন সেই অফিসারকে চরম ভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের পর নিরিবিলি এক স্থানে গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেয়ার সময় স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “বিষয়টি কেউ জানতে পারলে ফ্যামিলি সহ গায়েব করে দেওয়া হবে।” 


সেনা অফিসারের এতদিন অফিসে অনুপস্থিতি নিয়ে কেউ টুঁ শব্দ পর্যন্ত করে না, বিষয়টি কি হয়েছে সবাই তা ধারণা করতে পারে এবং এক চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সংক্রমিত হয় সকলের অন্তরে। 


বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উদ্যম, সাহস, আত্মবিশ্বাস, মনোবল ও যুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতাকে সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু করে দেওয়াই হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য। 


তাই এই অবধারিত পরাধীনতা থেকে বাঁচতে হলে বাংলাদেশের মানুষকে এখনই ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। 


কি সেই ব্যবস্থা? 


- সবার আগে এই সংকটের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে ও সতর্ক করতে হবে। অন্য কেউ করবে ধারণা করে নিজে চুপ করে বসে থাকলে হবে না। হাতে আর বেশী সময় নেই। 


প্রত্যেক ষড়যন্ত্রের একটি উত্থান পর্ব থাকে, এক পর্যায়ে কোন একটি ঘটনার প্রবল ধাক্কায় সেই ষড়যন্ত্রের পতন শুরু হয়। 


ঢাকা কেন্দ্রিক আন্দোলন করে ভাদা সরকারের সাহায্যে বাংলাদেশের পতন রক্ষা করা সম্ভব নয়। আন্দোলন হতে হবে সারা দেশব্যাপী। 


বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে হবে যে মুসলমানদের শত্রুদের গোলাম কখনই মুসলমান বা মুসলমানদের বন্ধু হতে পারে না। তারাও আসলে ছুপা কাফির, ইসলামের শত্রু। 


বাহারী পাঞ্জাবি ও টুপি পড়ে শুধু মাত্র ঈদের নামাজ আর জানাজার নামাজে উপস্থিত হলেই মুসলমান হওয়া যায়না। 


সিদ্ধান্ত আর কর্ম দ্বারা যাচাই হয় কে মুসলমান আর কে কাফির। বিশেষ করে চরম ইসলাম বিদ্বেষী কাফিরের সহায়তায় যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকে, যতই নিজেকে ঈমানদার দাবী করুক সে কখনই মুসলমান হতে পারে না। 


আরো একটি জিনিস বাংলাদেশের মুসলিমদের বুঝতে হবে সেটা হলো - 


মুসলমানেরা যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সে দেশই তার মাতৃভূমি কিন্তু হিন্দু এবং ইহুদীদের ক্ষেত্রে তা নয়। হিন্দুরা যে দেশেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, তাদের ডিফল্ট মাতৃভূমি হচ্ছে ভারত, আর ইহুদীদের ডিফল্ট মাতৃভূমি হচ্ছে ইসরাঈল।


আর এটা তারা সংসদীয় আইন পাশ করে স্বীকৃতি দিয়েছে। 


তাই আপনার পাশের হিন্দুটি সম্পর্কে সতর্ক হোন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। উচিত পদক্ষেপ নিলেই মহান আল্লাহ পাকের সাহায্য আসবে ইনশা আল্লাহ।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...