Monday, August 17, 2020

পারিবারিক জীবনে নেককার আহলিয়ার অবদান”

 “পারিবারিক জীবনে নেককার আহলিয়ার অবদান”

=================================== 


পারবিারকি জীবন শান্তিময় করার জন্য আহাল-আহলিয়া উভয়ের ভূমিকা অপরিসীম। আর শান্তিময় জীবন-যাপন করা তখনই সম্ভব যখন পবিত্র কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। একজন আহাল তার সম্মান রক্ষা করতে পারে তার আহলিয়ার দ্বারা এবং একজন আহলিয়াও তার সম্মান রক্ষা করতে পারে তার আহালের দ্বারা। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উভয়কে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ সর্ম্পকে 


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করনে-

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَاَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ   

র্অথ মুবারক: তোমরা (পুরুষরা) তাদের (মহিলাদের) আবরণ, তারাও তোমাদের আবরণ। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ-১৮৭)

অর্থাৎ আহাল ব্যতীত আহলিয়া যেমন পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারেনা, ঠিক তেমনি আহলিয়া ব্যতীত আহালও পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারেনা। 


আমরা যদি সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সুচনা লগ্ন থেকে আজ অবধি লক্ষ্য করি, তাহলে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সহজেই খুঁজে পাই। যেমন: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যিনি ধারক-বাহক উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ মুবারক আনলেন, তখন থেকে সম্মানিত হায়াত মুবারকে থাকা র্পযন্ত এমন বেমেছাল খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দিয়েছিলেন যার ফলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সন্তুষ্ট মুবারক হয়ে সবসময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতেন এবং বলতেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম দিয়েছেন; উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম দেননি।”  


        নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুস সালাম (জবান মুবারক) উনার এই ছানা-ছিফত মুবারক দ্বারাই প্রমাণিত হয়,উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান ফযীলত মুবারক কত উর্ধ্বে। ঠিক তেমনি অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অবদানও বেমেছাল। মূলত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হায়াত মুবারকে থাকা অবস্থায় হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যেমন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন ঠিক তেমনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পরেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন। যার কারনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সার্বিক বিষয়ের ফায়সালা মুবারক নিয়েছেন।


পরবর্তীতে মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের দিকে লক্ষ্য করলেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক আঞ্জামের বিষয়টি দেখতে পাই। হযরত পুরুষ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের কামিয়াবীর পিছনে মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের অবদানও ছিল বেমেছাল। যেমন তাবুকের জিহাদের সময় যিনি খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলল্লিাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাছে তেমন কোন অর্থ মুবারক ছিল না। কারণ একদিকে ফসল কাটার সময় তখনও হয়নি র্অথাৎ ফসল উঠলে তা বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করার কথা ছিল কিন্তু তখনও ফসল ও ফল উঠার সময় হয়নি। অপরদিকে উনারা সবকিছু মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করে দিতেন, কোনকিছু জমা করে রাখতেন না। যার কারণে তিনি তাবুকের জিহাদের ঘোষনা শুনে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন উনার এই চিন্তাগ্রস্ত অবস্থা দেখে উনার সম্মানিতা আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উনার কাছে চিন্তার কারণ জানতে চাইলেন। জবাবে তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাবুকের জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইরশাদ মুবারক করেছেন, যার যার সাধ্য-সামর্থ অনুযায়ী শরীক থাকার জন্য। কিন্তু আমার হাতে এখন তেমন কিছু নেই, আমি কিভাবে শরীক থাকব। এজন্য আমি ভীষন চিন্তিত। তখন উনার আহলিয়া বললেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু সাধ্য-সামর্থ অনুযায়ী শরীক থাকতে বলেছেন তাই আমাদের যা কিছু আছে, আপনি তাই নিয়ে যান। তখন উনার আহলিয়া ঘরের সবকিছু এমনকি ঝাড়ুটা র্পযন্ত একটা বস্তায় ঢুকিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে তুলে দিলেন।এভাবেই উনার সম্মানিতা আহলিয়া হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার চিন্তা মুবারক দূর করে দিলেন। তাবুকের জিহাদে হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এই সর্বস্ব দিয়ে গোলামীতে আঞ্জাম মুবারক দেওয়ার ফলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করেন।(সুবহানাল্লাহ্)

  

এখানে একটা সুক্ষ্ম ফিকিরের বিষয়- সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যে তাবুকের জিহাদে গোলামীতে আঞ্জাম মুবারক দিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেছিলেন তার পিছনে কার অবদান ছিল ? বিষয়টি সহজেই বুঝা যাচ্ছে সাইয়্যদিুনা হযরত ছিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আহলিয়া উনার অবদান ছিল ।    

                                                                                                                                                                                                                                       

                                                                                         আমরা যদি বিষয়টি আরো লক্ষ্য করি, সেই মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে শুরু করে আজ অবধি যারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে আখাছছুল খাছ লক্ষ্যস্থল বান্দা-বান্দী, উম্মত ছিলেন এবং আছনে, উনাদের পত্যেকেরেই সাফল্যের চুড়ান্ত শীর্ষে পৌঁছানোর পিছনে অবদান রেখেছেন - কারো সম্মানিতা মাতা, কারো সম্মানিতা আহলিয়া এবং কারো সম্মানিতা বানাত।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...