🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ. الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَكَانُوْا يَتَّقُوْنَ. لَهُمُ الْبُشْرى فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِى الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيْلَ لِكَلِمَاتِ اللهِ ذلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ.
অর্থ: “সাবধান! নিশ্চয়ই যাঁরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী রয়েছেন উনাদের কোন ভয় নেই, চিন্তা নেই, পেরেশানী নেই। যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করেছেন। উনাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে সুসংবাদ রয়েছে। এটা উনাদের জন্য মহান সফলতা, চরম কামিয়াবী।” (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ : ৬২-৬৪)
আর যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ওলীউল্লাহ উনাদেরকে মুহব্বত করো, কেননা উনারা হচ্ছেন মক্ববূল। আর তোমরা উনাদের বিরোধীতা করো না কেননা উনারা সাহায্যপ্রাপ্ত।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদছী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ উনারা আমার কুদরী জুব্বা মুবারক উনার নীচে অবস্থান মুবারক করেন। উনাদের হাক্বীক্বী পরিচয় আমি এবং আমার মাহবূব ওলীউল্লাহ উনারা ব্যতীত আর কেউ জানেন না।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ, কায়িম মাক্বামে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাফিউল উমাম হযরত শাহ দামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল ওলীউল্লাহতো অবশ্যই; তার পাশাপাশি উনার অন্যতম আরো একখানা মুবারক বৈশিষ্ট্য হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তুর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبى وَمَنْ يَّقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُ فِيْهَا حُسْنًا إِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ.
অর্থ: “(আমার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার সম্মানিত ইলম মুবারক থেকে বান্দাদেরকে, উম্মতদেরকে) জানিয়ে দিন, তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাওয়া হচ্ছে, প্রতিদান চাওয়া হচ্ছে না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং তোমাদের জন্য এটা চিন্তা করাটাও কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, যিনি খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি রেযামন্দি লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে আমার নিকট আত্মীয়-স্বজন তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া। আর যে ব্যক্তি কোন নেক কাজ করে আমি তার নেকি বৃদ্ধি করে থাকি। নিশ্চিয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল এবং উত্তম প্রতিদানদানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
আর যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحِبُّوا اللهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ مِنْ نِعَمِةٍ وَأَحِبُّوْنِىْ لِحُبِّ اللهِ وَأَحِبُّوْا أَهْلَ بَيْتِىْ لِحُبِّىْগ্ধ .
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা তিনি তোমাদেরকে খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মারিফাত মুবারক পেতে হলে, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমাকে মুহব্বত করো। আর তোমরা আমার মুহব্বত-মারিফাত মুবারক পেতে হলে, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফ, আল মু’জামুল কাবীর শরীফ, শু‘য়াবুল ঈমান শরীফ)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা গেলো যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মা’রিফাত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য ফরয উনার উপরও ফরয। সুবহানাল্লাহ!
মূলত উনাদের মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। যাঁরা উনাদেরকে মুহব্বত করে উনারাই ঈমানদার। সুবহানাল্লাহ! আর যারা উনাদেরকে মুহব্বত করেনা তারা ঈমানদার নয়; বরং মুনাফিক্ব ও কাফির। না‘ঊযুবিল্লাহ!
সেটাই বলা হয়েছে,
حُبُّ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِيْمَانٌ.
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা হচ্ছে ঈমান। সুবহানাল্লাহ!
বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ, কায়িম মাক্বামে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাফিউল উমাম হযরত শাহ দামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। সুবহানাল্লাহ! তাই উনাকে মুহব্বত করা, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনার সম্মনিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া প্রত্যেকের জন্য ফরয উনার উপরও ফরয। সুবহানাল্লাহ!
বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ, কায়িম মাক্বামে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাফিউল উমাম হযরত শাহ দামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার আরো একখানা অন্যতম আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ খুছূছিয়াত মুবারক হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন, যিনি সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আল জাব্বারিউল আওউয়াল ওয়াল ক্ববিউল আওউয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মহাসম্মানিত দামাদ। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন যিনি সাইয়্যিদাতু নিসাই আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত যাওজুম মুকাররাম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! অন্যদিকে তিনি হচ্ছেন আসাদুল্লাহিল গালিব, বাবুল ইলম, খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পরিপূর্ণ কায়িম-মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল তা এখান থেকেই অতি সহজে অনুমেয়। সুবহানাল্লাহ! আজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৪ যিলক্বদ শরীফ হচ্ছেন উনারই আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেকের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে সর্বশক্তি দিয়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক উপলক্ষে ঈদ পালন করা, খুশি প্রকাশ করা এবং এর মাধ্যম দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক লাভ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে কবূল করুন। আমীন!

No comments:
Post a Comment