Thursday, June 25, 2020

পশু খামারিদের প্রশ্ন: পবিত্র কুরবানীতে সরকারী সহযোগিতা কোথায়?

পশু খামারিদের প্রশ্ন:
পবিত্র কুরবানীতে সরকারী সহযোগিতা কোথায়?
________________________________________

পবিত্র কুরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। কারণ লকডাউনের প্রকোপ এখনও কমেনি, বাংলাদেশে বরং আরও দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় খামারিরা পশু বাজারে নিতে পারবেন কিনা, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা, ক্রেতা মিললেও দাম সঠিক পাবেন কিনা এসব বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কে রয়েছেন দেশের পশু খামারিরা।
ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত খামারিদের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রশ্ন করেন, সরকার বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করছে, প্রণোদনা দিচ্ছে, কিন্তু পবিত্র কুরবানীর পশুর লালন-পালনকারীদের সহযোগিতা নেই কেন?
লকডাউন নিয়ে তারা এখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। মূলত কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাবছর গরু লালন-পালনে তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। তাই এখন পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন দেশের এসব খামারিরা।
বর্তমানে দেশে লাখ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এমনকি কিছু উট এবং দুম্বার খামারও গড়ে উঠেছে। গ্রামের সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে লাখ লাখ মানুষ গরু, ছাগল, ভেড়া পালন করেন। এখন অনেক শিক্ষিত যুবক ডেইরি ফার্ম এবং গরু মোটা তাজাকরণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে কারণে সারাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় বড় গরু/ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারাবছর কসাইেদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি কিছু কিছু স্পেশাল গরু তারা তৈরি করা হয় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে।
কথা হয় শেরপুর জেলার খামারি তৌহিদুর রহমান পাপ্পুর সঙ্গে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যারা খামারি সারাবছর গরু মোটাতাজাকরণ করে কুরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। বড় এবং দেখতে সুন্দর গরুগুলো কুরবানিতে ৩/৪ লাখ টাকা বিক্রির আশায় ভালো ভালো খাবার দিয়ে পালন করে যদি সেগুলো বিক্রি না হয় তাহলে আমাদের প্রচুর লস হয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মূলত ডেইরি খামারি। আমার খামারে যে ষাঁড় বাচ্চাগুলো জন্ম নেয় এবং যেগুলো দেখতে সুন্দর সেগুলো আমি কুরবানির জন্য লালন-পালন করি। বাকিগুলো বিক্রি করে দেই। এবার তিনি ২৫টি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন বলে জানান।
এই খামারি বলেন, এত টাকা বিনিয়োগ করে যদি কুরবানির ঈদে গরুর দাম ভালো না পাই তাহলে আমাদের খামারিদের দুঃখের সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেকে লোন হয়েছে। ধার-দেনা করে কুরবানির আাশায় গরু পালন করেছি। লকডাউনের বর্তমান অবস্থায় এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার খামারি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এবার সারা বছর ৫৮টি গরু লালন-পালন করেছি কুরবানির আশায়। এখন লকডাউন নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।
এক প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, সারাবছর আমরা পরিশ্রম করে গরু পালন করি, কিন্তু আমরা বেশি লাভ করতে পারি না। কয়েক বছর ধরে ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ খেকে গরু কিনে অনলাইনে ছবি দিয়ে বিক্রি করে ফায়দা লোটে। তার মধ্যে এবার গো-খাদ্যের দাম অত্যধিক বেড়ে গেছে। এ কারণে গরু পালনে খরচও বেড়েছে। লকডাউন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেকেই গরুর হাটে আসবে না। তখন বাজার ফ্লপ করবে। এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লস হবে।
দুঃখ করে তিনি বলেন, এইবার যদি লস হয় আর গরুর ব্যবসাই করব না।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গরু খামারি বেলায়েত হোসেন বলেন, লকডাউনের কারণে দুধে এক দফা মার খেয়েছি। এখন পর্যন্ত দুধে লাভ নেই। কারণ দুধের দামের চেয়ে ভুসির দাম বেশি। এ অবস্থায় কোনো খামারি ভালো নেই। মিল্ক ভিটাও পুরো দুধ নিচ্ছে না। তারা অর্ধেক দুধ নিচ্ছে। বাকি অর্ধেক দুধ আমাদের ফেরি করে বিক্রি করতে হয়।
তিনি বলেন, দুধ দিয়ে কখনও ফার্মের লাভ আশা করা যায় না। আমরা তাকিয়ে থাকি কুরবানির দিকে। কুরবানিকে কেন্দ্র করেই আমরা ২৫/৩০টি ষাঁড় লালন-পালন করে থাকি। সেই কুরবানিতে যদি গরুর ন্যায্য দাম না পাই তাহলে খামারিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...