কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আইনী নোটিশ:
-------------
পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের দায়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব তাজুল ইসলামকে সতর্ক করে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট শেখ ওমর শরীফ।
নোটিশে মন্ত্রীর কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব তাজুল ইসলাম গত ১৮ জুন ২০২০ তারিখে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় এ-বছর কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যা কমানো হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে ছোট হাটগুলো বসানো হবে না। লোকালয় থেকে দূরে এবং অপেক্ষাকৃত বড় জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
মন্ত্রীর কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে এ ধরণের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নোটিশে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের একটি দ্বীনি উৎসব এবং পশু কুরবানী একটি দ্বীনি ইবাদাত। কুরবানীর পশুর হাট, পশু কেনা-বেচা, পশু কুরবানী ইত্যাদি কাজ সারতে সারা বছরে মাত্র ৪/৫ দিন লাগে। কুরবানীর পশুর হাট প্রকৃতপক্ষে দেশবাসীর নাগালের মধ্যেই বসাতে হবে। সহজভাবে পশু কিনতে পারা মুসলিমদের একটি নাগরিক অধিকার। অথচ মন্ত্রী বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় কমানো হবে হাটের সংখ্যা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে ছোট হাটগুলো বসানো হবে না, লোকালয় থেকে দূরে এবং অপেক্ষাকৃত বড় জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে!
মন্ত্রীর কথিত ‘স্বাস্থবিধি’ যে একটি অযৌক্তিক ও অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে, বিভিন্ন দেশের উদারহণ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের রেফারেন্স তুলে ধরে বলা হয়, লকডাউন ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পেরেছে, তা আদৌ প্রমাণিত নয়। বরং হার্ড ইম্যুনিটি তৈরিতে এটা বাধাস্বরূপ। যে কারণে অনেক দেশই সকল বিধি-নিষেধ তুলে দিয়ে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
তাছাড়া পবিত্র কুরবানী একজন মুসলমানদের দ্বীনি অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে পবিত্র কুরবানীর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনাকে কঠিন ও প্রায় অসম্ভব করে তোলা, দেশে পশুর হাট ও কুরবানীর স্থানের সংকোচনের ষড়যন্ত্র মুসলমানদের পবিত্র দ্বীনি অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।
তাই নোটিশে মন্ত্রীকে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট কমানো নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে।
★ সুত্র: দৈনিক আল ইহসান: (is.gd/nCkdtY)

No comments:
Post a Comment