Tuesday, June 30, 2020

অনলাইন ভিত্তিক কুরবানীর পশুর হাট শরীয়তসম্মত নয়

অনলাইন ভিত্তিক কুরবানীর পশুর হাট শরীয়তসম্মত নয়

অনলাইনে কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার অর্থ হচ্ছে কুরবানীর পশুর ছবি দেখিয়ে বেচা-কেনা করা। অথচ সম্মানিত শরীয়ত তথা দ্বীন ইসলামে প্রাণীর ছবি তোলা, তোলানো, দেখা ও দেখানো সবই হারাম।
ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সকল মানুষকে ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দিবেন যারা ছবি তোলে বা আঁকে। নাউযুবিল্লাহ!
ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে আরো বণিূত রয়েছে-
قَالَ اللهُ تَعَالى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম বা অত্যাচারী কে রয়েছে, যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত তৈরী করে।
ছহীহ মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
كُلُّ مُصَوِّرٍ فِى النَّارِ يَجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِى جَهَنَّمَ
অর্থ: ছবি তোলনেওয়ালা, আঁকনেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামে যাবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রতিটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেগুলো তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি দিতে থাকবে।
অনুরূপ আরো অসংখ্য হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার মাধ্যমে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, দেখানো ইত্যাদি হারাম ঘোষণা করা করা হয়েছে। এবং ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বড় যালিম, কাফির ও জাহান্নামী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
দ্বিতীয়তঃ অনলাইন ভিত্তিক কুরবানীর পশুর হাট করা তথা কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, করোনা ভাইরাসকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে মনে করা। অথচ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিধান মতে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে, কুলক্ষণ ইত্যাদি বিশ্বাস করা কুফরী।
ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ
অর্থ: ছোঁয়াচে বা সংক্রামক কোন রোগ নেই এবং কুলক্ষণ বলেও কিছু নেই।
তৃতীয়তঃ অনলাইনে কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করা হলে কুরবানীর পশু নিখুঁত ও উপযুক্ত হওয়ার জন্য যে সমস্ত গুণ থাকা জরুরী তা সনাক্ত করা কখনোই সম্ভব নয়। ফলে উক্ত পশু কুরবানীর পশু হিসেবে অনুপযুক্ত হওয়ার কারণে তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী মোটেও শুদ্ধ হবে না।

সর্বোপরি কুরবানী ওয়াজিব ইবাদত। এই ইবাদত পালন করার জন্যে ঈমানদার বা মুসলমান হওয়া শর্ত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে পশু বেচা-কেনা করার কারণে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ে করোনা ভাইরাসকে ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে ঈমান নষ্ট করে ঈমানহারা হয়ে যাবে অর্থাৎ ঈমানদার বা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যাবে। আর প্রাণীর ছবির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে বড় যালিম ও জাহান্নামী হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, অনলাইন ভিত্তিক কুরবানীর পশুর হাট থেকে সকলকে বিরত হওয়া ঈমানী দায়িত্ব।

#কৃতজ্ঞতা: al-ihsan.net

No comments:

Post a Comment

দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু

  দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বারো বাজারে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে মুহম্মদ আলী রেজা রাজু  ভাই তোমার জন্য শুভ...