_____________________________
হযরত সা‘দ রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন একদল লোককে কিছু দান করলেন। হযরত সা‘দ রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সেথায় উপস্থিত ছিলেন। হযরত সা‘দ রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইরশাদ মুবারক ফরমান, না, সে মুসলিম নয়। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইরশাদ মুবারক ফরমান, না, সে মুসলিম নয়। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইরশাদ মুবারক ফরমান, না, সে মুসলিম নয়। তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেন, ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।
এ হাদীস শরীফ হযরত ইউনুস রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সালিহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মা‘মার রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভ্রাতুষ্পুত্র হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেছেন।
(পবিত্র মুসলিম শরীফ)
অথচ আজকাল দেখা যায়, অনেকে পবিত্র যাকাত, পবিত্র ফিতরা, পবিত্র কুরবানীর চামড়া কাফির মুশরিকদেরকে এবং কাফির মুশরিকদেরকে সহযোগীতা করে এমন প্রতিষ্ঠানকে যেমন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে দান করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আফসোস তাদের জন্যে।

No comments:
Post a Comment